দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ভবিষ্যতের ভূত' সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে।
এই মামলা দায়ের করেছেন দুই সিনেমাপ্রেমী। তাঁদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মামলার আবেদনে বলা হয়েছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে ছবিটি ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়। তাঁরা কলকাতার কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্সে ছবিটি দেখতে গিয়ে জানতে পারেন সেটির প্রদর্শন বন্ধ রয়েছে। সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া কোনও ছবির প্রদর্শনী বন্ধ রাখা যায় কিনা সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে মামলার আবেদনে।
মামলার আবেদনকারীরা হাই কোর্টের কাছে এও জানতে চেয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার কোনও নির্দেশ ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে বলেছে কিনা। মামলায় যুক্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, ছবির প্রযোজক, পরিচালক এবং কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে।
এর আগে ছবির প্রযোজনা সংস্থা Indibility Creative Private Limited (ICPL) লিখিত অভিযোগ দায়ের করে Eastern India Motion Pictures Association (EIMPA)-এর কাছে। ছবির প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায় জানান, ৪৪টি হলে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ দেখানোর ছাড়পত্র পেয়েছিল ICPL। তাঁদের অভিযোগ, যতগুলো হল তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁর থেকে সংখ্যায় অনেক কম হল দেওয়া হয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য আগাম টাকাও নিয়েছিলেন হল মালিকরা। কিন্তু তারপরেও বন্ধ করে দেওয়া হয় ছবির প্রদর্শন।
প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ পত্রে ছবি বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। প্রযোজকের কথায়, ছবি রিলিজের আগে ছাড়পত্র দিয়েছিল সেন্সর বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার অধিকার একমাত্র সেন্সর বোর্ডের। বাকি কোনও সংস্থা তা করতে পারে না। তারপরেও বিভিন্ন হলে বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর স্ক্রিনিং। কোনও যুক্তিসংগত কারণও দেখাতে পারেননি হল মালিকরা। ছবির প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায়ের বলেন, ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সেন্সর বোর্ড ও আদালতের অবমাননা করা হয়েছে।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রিলিজ হয় পরিচালক অনীক দত্তর ছবি 'ভবিষ্যতের ভূত'। কিন্তু রিলিজের একদিনের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন হলে বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির প্রদর্শন। মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গল স্ক্রিন, তালিকায় ছিল সবই। কিন্তু কেন আচমকাই এই ছবি বন্ধ করে দেওয়া হলো, সে ব্যাপারে কোনও সঠিক কারণ দেখাতে পারেননি হল মালিকরা। কোথাও বলা হয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি। কেউ বা বলেছেন, ‘ওপর মহলের অর্ডার আছে’। তবে কে বা কারা এই ‘ওপর মহল’ তা জানা যায়নি। এমনকী আগাম টিকিট কেটে সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১৪ মার্চ রিলিজ হয়েছিল অনীক দত্তর প্রথম বাংলা ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যত’। দমফাটা হাসির এই ছবি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। সিনেমাপ্রেমী দর্শকমহলে প্রশংসাও কুড়িয়েছিল এই ছবি। তারপর থেকেই দর্শকদের দাবি ছিল ছবির সিক্যুয়েল বানানো হোক। এরপর প্রায় ৭ বছর পর রিলিজ হয়েছিল ‘ভবিষ্যতের ভূত’। যদিও পরিচালক জানিয়েছিলেন এ ছবি সিক্যুয়েল নয়। বরং একেবারেই আদ্যোপান্ত নতুন একটা ছবি। দর্শকমহলেও নতুন ছবি নিয়ে উন্মাদনা ছিল। কিন্তু আচমকাই শহর জুড়ে ছবির প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদে সরব হন টলিপাড়ার তারকারাও।
তবে রিলিজের পরেই যে কয়েকজন ছবিটি দেখেছিলেন একাংশের দাবি, হালফিলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের অনেক কিছুই নিজের ছবিতে তুলে ধরেছেন অনীক। তাঁর ছবিতে যে বার্তা রয়েছে তা এই যে, রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধিতা করলে হতে হবে কোণঠাসা। এমনকী ভূতের মতোও দশা হতে পারে। সেই সঙ্গে ছবিতে দেখানো হয়েছে ভিলেনের মাথায় অক্সিজেন কম যায়। ব্যবহার করা হয়েছে চড়াম চড়াম’ জাতীয় শব্দ। ‘হোক কলরব’-এর মতো আন্দোলনও উঠে এসেছে ছবিতে। দর্শক, কলাকুশলী এবং টলিপাড়ার একটা বড় অংশের মতে এ জাতীয় জিনিস ছবিতে রাখার জন্যই অকারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনীক দত্তর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’।