দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল শহর ধূপগুড়ি। মুরগির মাংসের দাম না পেয়ে জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগি রাস্তায় আছড়ে ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে বিক্ষোভ দেখালেন বিক্রেতারা। ফেলে দেওয়া মাংস খেল কুকুরে।
করোনা আশঙ্কায় দাম মিলছে না মুরগি মাংসের। ক্রেতার অভাবে চাহিদা নেই বাজারে। ফলে ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা। তাই এই ভাবে তাঁরা বিক্ষোভ দেখালেন।
রবিবার ছুটির দিনে যেখানে এক একজন বিক্রেতারা সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত হাজার তিনেক টাকা আয় করেন সেখানে রবিবার এক একজন মাংস বিক্রেতা দিনভর খেটে সর্বোচ্চ ৯০০ টাকার বিক্রি করেতে পেরেছেন। লাভ হয়নি বললেই চলে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা।
রবিবার রাতে দোকান থেকে জ্যান্ত মুরগি বার করে তাকে পিটিয়ে মেরে রাস্তায় ফেলে দেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ১৫০ টাকা কেজির মাংস ৬০-৭০ টাকায় দিলেও ক্রেতারা নিতে চাইছেন না। মুরগির মাংসের দোকানে আসতেই চাইছেন না ক্রেতারা। করোনা আতঙ্কের জেরে এই পরিস্থিতি বলে দাবি তাঁদের।
মইনুল হক ও ফরিদুল ইসলামরা জানান যে ‘ফান্ড’ থেকে এক লক্ষ টাকা নিয়ে ব্যাবসা করছি। রোজ ফান্ডের কিস্তি ৭০০ টাকা। আগে প্রতিদিন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার ব্যবসা করতাম, পুষিয়ে যেত। এখন দিনভর বসে থেকে থেকে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার। ব্যবসা হচ্ছে না। আমাদের দোকান চালানোর ন্যূনতম খরচ, ফান্ডের টাকা, কর্মচারীদের মাইনে সব মিলিয়ে খরচ অন্তত এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এরপরে সংসারের খরচ আছে। যতদিন বাজারের অবস্থা ঠিক না হচ্ছে ততদিন ব্যবসা বন্ধ রাখতে হবে বলে জানান তাঁরা।
ঘটনায় জলপাইগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠন স্পোর-এর সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে বলেন, “অত্যন্ত অমানবিক কাজ। দাম কমেছে বলে একটি অবলা জীবকে পিটিয়ে খুন করব আর বিক্ষোভ দেখাব! এ চলতে দেওয়া যাবে না। এসবের বিরুদ্ধে আইন আছে। আগামিকাল আমরা প্রতিবাদ আন্দোলনে নামব।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিং বলেন, “আন্দোলনের কথা জানা ছিল না। দাম কমেছে বলে মুরগি পিটিয়ে মেরে বিক্ষোভ দেখানো অত্যন্ত নিম্ন রুচির পরিচয়। এই ধরনের আন্দোলন সমর্থন যোগ্য নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্যবসায়ীদের মনে এখন প্রশ্ন কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি।