রফিকুল জামাদার
সেচ দফতরের অধীনস্ত জমি বেদখলের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ করছেন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শুরু করে কলকাতা, জায়গায় জায়গায় সেচ দফতরের পরিত্যক্ত জমি বেদখলের ঘটনা ঘটেছে বারবার। কোথাও ইটভাটা, কোথাও ফিশারি এমনকি সেচ দফতরের জমিতে গজিয়ে উঠেছে বিয়েবাড়িও। এ ব্যাপারেই এবার তৎপর হয়েছে সরকার।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি এমন বেদখলের অভিযোগ জমা পড়েছে সেচ দফতরের অফিসে। রাজ্যের যেখানে যেখানে সেচ দফতরের পরিত্যক্ত জমি বা জলাশয় রয়েছে তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। সমস্ত খবরাখবর নিয়ে রিপোর্ট আকারে তা পাঠাতে বলা হয়েছে। জেলাশাসকদের এই নির্দেশ দিয়েছেন সেচ দফতরের প্রধান সচিব প্রভাত মিশ্র।
সূত্রের খবর, রিপোর্ট আসার পর সমীক্ষা করে দেখা হবে কোথায় কোথায় অবৈধভাবে জমি দখল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সেচমন্ত্রী দ্য ওয়াল-কে বলেন, সেচ দফতরের তরফ থেকে আমাদের যা জমি আর জলাশয় রয়েছে তার পরিসংখ্যান জড়ো করছি।একটা ল্যান্ড ব্যাঙ্ক বানানোর জন্য এটা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, বেশ কিছু এলাকায় অবৈধভাবে সেচ দফতরের জমি দখল করে নানান কাজে লাগানো হচ্ছে। তাই এই পদক্ষেপ।
সূত্র মারফত জানা গেছে, কলকাতা থেকে এক কাউন্সিলর সেচ দফতরের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তা পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে সরকার।
কী অভিযোগ?
কলকাতার জনৈক কাউন্সিলর জানিয়েছেন, সেচ দফতরের জমিতে অবৈধভাবে বিয়েবাড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সরকার এই সমস্ত জমি ফেরাতে চায়। তবে ল্যান্ড ব্যাঙ্কের রিপোর্ট আসার পর এই জমি নিয়ে আগামী দিনে কী করা হবে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরেই স্থির করবে সেচ দফতর।
সেচ দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, অনেক জমি বহুদিন ধরে অবৈধ দখল হয়ে রয়েছে। হয়েছে অবৈধ নির্মাণও। সেই জমি ফেরানো অসম্ভব। সেক্ষেত্রে জমিগুলির দখলদারদের সঙ্গে চুক্তি করবে সেচ দফতর। কোথাও কোথাও লিজও দেওয়া হবে। তবে সবটাই ঠিক হবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই।
প্রশ্ন উঠতে পারে, হঠাৎ এত বছর পর অবৈধ দখলদারি নিয়ে কেন এই তৎপরতা? সেচ দফতরের একটি সূত্রে বলে হচ্ছে, সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প চলছে। স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভান্ডার, এই সমস্ত নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন। অবৈধ দখলদারির ফলে সেচ দফতরের ওই জমি গুলি কোন কাজেও লাগানো যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে যে জমি ফেরানো সম্ভব নয় সেই জমি লিজে বা চুক্তি ভিত্তিক দেওয়া হলে সরকারের একটা বাড়তি রাজস্ব আদায় হবে। পাশাপাশি, পুনর্বাসন দেওয়া যাবে ওই সংশ্লিষ্ট জমিগুলিতে। তাই জমি পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ করা হচ্ছে।