কোনও চিকিৎসক নয়, প্রথম ভাইরাস আবিষ্কারের কৃতিত্ব উদ্ভিদবিদদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস যে ভাবে বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছে তাতে ভাইরাস নামটির সঙ্গে সকলেই পরিচিত হয়ে গেছেন। সদ্য যারা স্কুলে যেতে শুরু করেছে এখন তারাও জেনে গেছে ভাইরাস এক ভয়ানক জিনিস। তবে অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন প্রথম আবিষ্কার
শেষ আপডেট: 29 March 2020 02:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস যে ভাবে বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছে তাতে ভাইরাস নামটির সঙ্গে সকলেই পরিচিত হয়ে গেছেন। সদ্য যারা স্কুলে যেতে শুরু করেছে এখন তারাও জেনে গেছে ভাইরাস এক ভয়ানক জিনিস। তবে অনেকেই হয়তো ভুলে গেছেন প্রথম আবিষ্কার হওয়া ভাইসরাসের নাম। ভুলতে বসেছেন প্রথম আবিষ্কার হওয়া ভাইরাসের কথাও।
১৮৮২ সালে যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াম আবিষ্কার করেন জার্মান প্যাথোলজিস্ট রবার্ট কোচ। জীবাণুতত্ত্বের দিক থেকে সেটি যুগান্তকারী হলেও তখনই তার ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হয়ননি।
উনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই মোজাইক রোগে আক্রান্ত হচ্ছিল গাছ। বিশেষ করে তামাকের একটি রোগ হচ্ছিল যার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিজ্ঞানীরা শত চেষ্টা করেও এর পিছনে থাকা জীবাণুটিকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সেটি ব্যাকটেরিয়া নাকি ছত্রাক সেকথাও বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শেষে মার্টিনাস বেইজারিঙ্ক ১৮৯৮ সালে নতুন তত্ত্ব দিলেন – তিনি জানালেন এই রোগের নেপথ্যে ব্যাকটেরিয়াও নেই আর ছত্রাকও নেই। রয়েছে অন্য একটি জিনিস। তিনি তার নাম দেন – ভাইরাস।
১৮৯০-র দশকে আবিষ্কার হওয়া সেই ভাইরাসটির নাম টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস। এখন সর্বত্রই কথা হচ্ছে কোভিড ১৯ বা করোনাভাইরাস নিয়ে। আসল কথাটি হল মেডিক্যাল সায়েন্স প্রথম ভাইরাসের আবিষ্কার করতে পারেনি। সেটি করেছিল উদ্ভিদবিজ্ঞান।
আমাদের দেশে চিরকালই চিকিৎসা হয়ে এসেছে গাছগাছড়ার উপরে নির্ভর করে। কলকাতায় দেশের প্রথম মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরে সেখানে অধ্যাপনা করতেন বট্যানিস্টরাও। এখন অবশ্য সময় বদলেছে। ভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্যও আস্ত প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে।
ফেরা যাক টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাসের কথায়। এই আবিষ্কার ১৮৯২ সালে হয়েছিল নাকি ১৮৯৮ সালে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। দিমিত্রি ইভানোস্কি ১৮৯২ সালে সংক্রামিত পাতা থেকে মূল জিনিস বার করে চেম্বারল্যান্ড ফিল্টার-ক্যান্ডেলে তা ছাঁকার চেষ্টা করেন। এই ফিল্টারে যে কোনও ব্যাকটেরিয়া আটকে যায়। যখন ছাঁকার পরেও আক্রান্ত পাতার রোগ সারল না তখন তিনি বুঝে যান যে রোগের কারণ কোনও ব্যাকটেরিয়া নয়। তখন একটি নতুন শব্দ আবিষ্কৃত হয় – ফিল্ট্রেট প্যাথোজেন। তবে এই নতুন জিনিসটির নামকরণ করেন মার্টিনাস বেইজারিঙ্ক এবং সেটি ১৮৯৮ সালে। তামাক গাছের মোজাইক রোগের নেপথ্যে এটি ছিল বলে এর নাম দেওয়া হয় টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাস। মার্টিনাস বেইজারিঙ্ক ছিলেন একজন উদ্ভিদবিদ বা বট্যানিস্ট। ইভানোস্কিও তাই।
[caption id="attachment_201463" align="aligncenter" width="800"]

এক লক্ষ ষাট হাজার গুণ বড় করে দেখা টোব্যাকো মোজাইক ভাইরাসের ছবি[/caption]
এক্ষেত্রে আরও কয়েজনের কথা না বললেই নয়। প্রথম জন হলেন লুই পাস্তুর। তিনি প্রথম বলেন যে রেবিস (জলাতঙ্ক) রোগের কারণ এমন কোনও সূক্ষ্ম জিনিস যা অতিবড় শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও ধরা পড়ে না। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ছোট কোনও জিনিস আছে বলে তিনি জানান। ১৮৮৪ সালে ব্যাকটেরিয়া ছাঁকার জন্য একটি বিশেষ ফিল্টার তৈরি করেন চার্লস চেম্বারল্যান্ড। এটিই চেম্বারল্যান্ড ফিল্টার নামে পরিচিত যেটি কাজে লাগিয়েছিলেন দিমিত্রি ইভানোস্কি। টোব্যাকো মোজাইক রোগ যে সংক্রমণের ফলেই হচ্ছে একথা প্রথম বলেছিলেন অ্যাদল্ফ মেয়ার।
চেম্বারল্যান্ডের তৈরি ছাঁকনির মধ্য দিয়ে সংক্রামিত তামাকপাতা পাঠানোর পরেও দেখা যায় যে সেটি সংক্রামিতই রয়ে যাচ্ছে। এই পরীক্ষাটিই করেন ইভানোস্কি। তবে শুধু এঁরাই নন প্রথম ভাইরাস আবিষ্কারে অবদান রয়েছে আরও অনেক বিজ্ঞানীর।
বিজ্ঞানীরা এখন অবশ্য ইতিহাস নিয়ে নন বরং চিন্তিত নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে।