
শেষ আপডেট: 8 March 2020 01:00
ক্রোয়েশিয়ার ফ্রগিল্যান্ড[/caption]
ব্যাঙ যদি স্কুলে যেত কেমন লাগত? কিংবা যদি তারা সার্কাস দেখাত? মানুষের ভূমিকায় ব্যাঙ থাকলে কেমন হত তা নিয়েই ক্রোয়েশিয়ার এই জাদুঘর, নাম ফ্রগিল্যান্ড। এখানে ২১টি শোকেসে উনবিংশ শতাব্দীর মানুষের জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোট ৫০৭টি ব্যাঙ দিয়ে।
[caption id="attachment_193582" align="aligncenter" width="520"]
ক্রোয়েশিয়ার ফ্রগিল্যান্ডের শোকেস[/caption]
উপনিষদের গল্প, কথামালার গল্প বা ইশপের গল্পে মানুষের ভূমিকায় দেখা যায় নানা প্রাণীকে। ফেরেন্স মেরে নামে হাঙ্গেরিয়ার ট্যাক্সিডার্মিস্ট হয়তো তেমনই ভাবনা ভেবেছিলেন। তাঁর ভাবনা ছিল লেজবিহীন এই উভচর দিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা। সেই থেকে এক হাজার ব্যাঙ দিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। দশ বছর ধরে কাজ করার পরে তা শেষ হয় ১৯২০ সালে। তারপর সময়ের সঙ্গে হাতবদল হতে থাকে এইসব ব্যাঙের। হাতবদল মানে মালিকানা বদল। এই ভাবে হাত ঘুরতে ঘুরতে তাদের ঠাঁই হয়েছে ক্রোয়েশিয়ায়। সেখানে তাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে আলাদা এক জাদুঘর। সেখানে অবশ্য দেখানো সম্ভব হয়েছে ৫০৭টি ব্যাঙ।
[caption id="attachment_193587" align="aligncenter" width="957"]
ক্রোয়েশিয়ার ফ্রগিল্যান্ড[/caption]
মেরের কাজটি অদ্ভুত ধরনের তো ছিলই আবার একেবারে অনন্যও বলা যায়। তিনি ট্যাক্সিডার্মি বা চর্মবিদ্যার একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। ব্যাঙের মুখ দিয়ে কর্ক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙের দেহের বাইরের অংশ বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না করে জটিল পদ্ধতিতে ব্যাঙ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিটি বেশ সময়সাপেক্ষ হলেও তিনি এটিকেই বেছে নিয়েছিলেন। তার ফলে ত্রিমাত্রিক ভাবে প্রাণীটিকে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন। আর প্রতিটি উপস্থাপনা যাতে অনুপুঙ্খ হয় সেদিকেও তিনি নজর দিয়েছিলেন। যেমন যেখানে ব্যাঙ একজন চিত্রগ্রাহক সেখানে তার হাতে রয়েছে ছোট্ট ক্যামেরা, আবার যেখানে সেটি চিত্রশিল্পী সেখানে হাতে রয়েছে ছোট্ট একটি তুলি। সেগুলি বানানোও কম মেহনত ও ধৈর্যের নয়। শ্রেণিকক্ষের মধ্যে একটি ব্যাঙ আবার কিছু বলতে চাইছে – তার দুটি আঙুল তোলা।
[caption id="attachment_193588" align="aligncenter" width="962"]
ক্রোয়েশিয়ার ফ্রগিল্যান্ড[/caption]
আজ থেকে একশো বছর আগে তৈরি এই শিল্পকাজ ট্যাক্সিডার্মির শেষ কথা। এই জাদুঘর দেখতে বেশি ভিড় করে শিশুরা। তাদের দেখে মনে পড়ে যেতে পারে সেই ছড়া:
কুকুর বাজায় টুমটুম
বানর বাজায় ঢোল
টুনটুনিতে টুনটুনাল
ইঁদুর বাজায় খোল
সাপের মাথায় ব্যাঙ নাচুনি
চেয়ে দেখবে খুকুমণি।
মেরের কথা না জেনে ব্যাঙ নিয়ে একই ধরনের একটি কাজ শুরু হয়েছিল সম্ভবত তাঁরও আগে। সেই কাজ করেছিলেন সেনাকর্মীরা। সুইৎজারল্যান্ডের এস্তাভায়ের-লে-ল্যাক নামে সেই ব্যাঙ জাদুঘরে রয়েছে দেড়শো বছরের পুরনো সব ব্যাঙ। তাদের দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উনবিংশ শতাব্দীর জীবনযাত্রা। এই জাদুঘরটি খোলা হয় ১৯২৭ সালে।
[caption id="attachment_193602" align="aligncenter" width="585"]
সুইৎজারল্যান্ডের সেই জাদুঘর[/caption]
ঠিক কী ভাবে এই ব্যাঙের জাদুঘর গড়ে উঠল তাকে ইতিহাস না বলে কিংবদন্তী বলাই শ্রেয়। ১৮৫০ সাল নাগাদ কয়েক জন সেনা হঠাৎই যেন ব্যাঙের প্রেমে পড়ে যান। যখনই তাঁরা গ্রামের পথ ধরে যাতায়াত করতেন তখনই তাঁরা ব্যাঙ সংগ্রহ করতে শুরু করে দেন। তারপর সেই ব্যাঙগুলিকে মজার রূপ দিতে তার পেটে ভরে দিতে থাকেন বালি।
[caption id="attachment_193604" align="aligncenter" width="585"]
সুইৎজারল্যান্ডের সেই জাদুঘর[/caption]
এককথায় বলতে গেলে, এই জাদুঘরে গেলে আপনি শুধুমাত্র কয়েকটি ব্যাঙ দেখবেন না, দেখবেন সেই ব্যাঙের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা মানুষের জীবনযাত্রা। সুইৎজারল্যান্ডের এই জাদুঘরে রয়েছে ১০৮টি ব্যাঙ। এই সব ব্যাঙ বহন করে চলছে স্থানীয় ইতিহাস ও সুইৎজারল্যান্ডের সেনাদের গাথা।
[caption id="attachment_193605" align="aligncenter" width="360"]
সুইৎজারল্যান্ডের সেই জাদুঘর[/caption]
এই জাদুঘরে পরপর কয়েকটি ঘর রয়েছে, একটির ভিতর দিয়ে আর একটি ঘরে যেতে হয়। সেই ঘরগুলিতে রয়েছে সপ্তদশ শতাব্দীর রান্নাঘরের আদল।
বিশ্বে অনেক জাদুঘরেই রয়েছে স্টাফড প্রাণী কিন্তু একটিমাত্র উভচরের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলার এমন অনন্য ভাবনার প্রকাশ এই দুটি জাদুঘর ছাড়া সম্ভবত বিশ্বের আর কোথাও নেই।