Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

ক্যানসারকে হেলায় হারাতে পারে একমাত্র মনের জোর, নিজেকে দিয়ে বুঝেছি

অমিত সান্যাল তখন ২০০৯ সাল হবে। জিভের গোড়ায় ফুসকুড়ি গুলো বড্ড টাটিয়ে উঠছিল। অতটা কিছু মনে হয়নি। এক আত্মীয়কে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। ডাক্তারবাবুর সন্দেহ হয়। তিনি বলেন, দেরি করবেন না একদম। বায়োপসি করিয়ে নিন। ক্যানসার (Cancer) নয় ত

ক্যানসারকে হেলায় হারাতে পারে একমাত্র মনের জোর, নিজেকে দিয়ে বুঝেছি

শেষ আপডেট: 22 September 2021 14:14

অমিত সান্যাল

তখন ২০০৯ সাল হবে। জিভের গোড়ায় ফুসকুড়ি গুলো বড্ড টাটিয়ে উঠছিল। অতটা কিছু মনে হয়নি। এক আত্মীয়কে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। ডাক্তারবাবুর সন্দেহ হয়। তিনি বলেন, দেরি করবেন না একদম। বায়োপসি করিয়ে নিন। ক্যানসার (Cancer) নয় তো? জিভের ফুসকুড়ি থেকে ক্যানসার হবে ভাবিনি। মনে জোর রেখেছিলাম, আর ডাক্তারবাবুর ওপর বিশ্বাস। সন্দেহটা সত্যিই হল। বায়োপসি রিপোর্টে এল আমি ওরাল ক্যানসারে আক্রান্ত। জিভের গোড়ায় ছোট ছোট ফুসকুড়িগুলোই ক্যানসারের বীজ। ধীরে ধীরে গ্রাস করছে আমার শরীরকে। আমার মনে মৃত্যুর বিভীষিকা ছড়াচ্ছে। ক্যানসার মানেই তো মৃত্যু? সব হারিয়ে ফেলতে চলেছি কি আমি? মৃত্যু পরোয়ানা কি কড়া নাড়ছে আমার দরজায়? আর কত দিন আমার হাতে? বায়োপসি রিপোর্ট পাওয়ার পর থেকেই সারা শরীরে হিমস্রোত বয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম, অজানা মৃত্যু বড় নির্মম হয়ে তেড়ে আসছে। প্রতি মুহূর্তে তার গতি বাড়ছে একটু একটু করে। তার হিমশীতল নিঃশ্বাস ছিন্নভিন্ন করছে আমার সত্ত্বাকে। জীবন-মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে আমি যখন বিধ্বস্ত-বিপর্যস্ত তখন ক্যানসার চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে ভরসা দেন। তিনিই বোঝান ক্যানসার মানেই মৃত্যু নয়। মারণ ব্যধিকেও জয় করা যায়। তার জন্য শুধু ওষুধ আর অস্ত্রোপচারে কাজ হবে না। চাই মনের জোর, অদম্য মানসিক শক্তি। ডাক্তারবাবুরা বলেছিলেন, আমার মুখগহ্বরের ক্যানসার হয়েছে। স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমায় আক্রান্ত আমি। মুখের ভেতরে মাংসপিণ্ড তৈরি হয়। কথা বলতে, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। আর কী অসহ্য যন্ত্রণা!  মুখের ভেতর যেখানে মাংসপিণ্ড গজিয়েছে সেখান থেকে কিছুটা নিয়ে বায়োপসি করান ডাক্তারবাবুরা। তাতেই ধরা পড়ে ক্যানসার। ডাঃ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায় আমাকে ক্যানসার শল্য চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায়ের কাছে পাঠান। বায়োপসি করার পরে আমার চিকিৎসা শুরু হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণার মাঝেও ভেঙে পড়িনি। বিশ্বাস রেখেছিলাম ফিরে আসব। ক্যানসার জয় করতেই হবে আমাকে। পরের বছর ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার হয়। তারপর শুরু হয় রেডিওথেরাপি। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে শুধুমাত্র অস্ত্রোপচার করলেই ক্যানসার সেরে যাওয়া সম্ভব। তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে অস্ত্রোপচার করার পরে রেডিওথেরাপি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপিও করা হয়। আমাকে শুধু রেডিয়েশন দেওয়া হয়েছে দু'মাস ধরে। ২০১০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ অবধি। যন্ত্রণার লড়াই শেষ হয়নি খুব তাড়াতাড়ি। ২০১০ সালে অস্ত্রোপচারের পর জানলাম বেঁচে গেছি। এরপরের ধাপে রেডিয়েশন শরীর সইয়ে নিতে পারলে আরও কয়েক বছর দিব্যি বেঁচে থাকব। তখনও বুঝিনি ক্যানসার এত সহজে যাওয়ার নয়। ২০১৫ সালে ফের সে ফিরে এল। একইভাবে। আবারও অনুভব করলাম সেই অস্বস্তি। তখন আবার ৩০টা রেডিয়েশন নেওয়া হয়ে গেছে, ২২টা গলায় ও ৮টা মুখে। দ্বিতীয়বার আর দেরি করিনি। লক্ষণ বুঝে আগেই ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাঃ সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়, ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় আমার চিকিৎসা করেন। ওই বছর ডিসেম্বরে অস্ত্রোপচার হয়। তার পর থেকে এখনও অবধি সুস্থ আছি। আর কোনও সমস্যা নেই, যন্ত্রণা নেই। আমি ক্যানসার জয় করে ফেলেছি। নতুন জীবন পেয়েছি। ব্যারাকপুরে চর্মজ নামে একটি জুতোর শো-রুম আছে আমার। এখন আমি একদম সুস্থ। ভাল আছি। ভাবছেন তো, লড়াই শেষ হয়ে গেছে? একেবারেই না। সেদিন ছিল জীবন আর মৃত্যুর মাঝে লড়াই, সেখানে আমি জীবন পেয়েছি। এখন এক ভালবাসার লড়াই লড়ছি। যন্ত্রণাক্লীষ্ট মুখগুলোতে হাসি ফোটানোই আমার চ্যালেঞ্জ। মানুষকে বোঝাই ক্যানসার মানেই ইতি নয়, রোগ সারিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করছেন অনেকেই...আমারই মতো। ব্যারাকপুর অঞ্চল শুধু নয়, মুর্শিদাবাদ থেকে মালদহ—রাজ্যের যে কোনও প্রান্ত থেকে ডাক এলেই ছুটে যাই। ক্যানসার রোগীদের বন্ধু হয়েছি, সকলে আমাকে পিন্টু বলে চেনে। তাঁদের বোঝাই, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিই। আর্থিক চিন্তা, মৃত্যুচিন্তা, সবটাই বড় বেশি করে ঘিরে ধরে মানুষকে।  ক্যানসার নিয়ে ভয়টা এমন পর্যায়ে আজও রয়ে গিয়েছে, এমন বহু পরিবার আছে যারা ক্যানসারের নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।  একটা ছোট লাম্প ধরা পড়লে, তা আদৌ ক্যানসার কি না তা পরীক্ষা করাতে পর্যন্ত ভয় পান। সচেতনতার অভাবে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, আর এই দেরিই ডেকে আনে মৃত্যু। আমরা কিন্তু কেউ কারও আয়ুষ্কাল জানি না। কে কী ভাবে মারা যাব তা-ও নয়। তাই প্রথমেই একে ‘মারণরোগ’ বলে দেগে দেওয়াটা ঠিক নয়। আসলে আমরা সারাক্ষণ রোগীর চারপাশে তাঁর অসুস্থতা নিয়ে কথা বলি, কোনও কোনও পরিবারে খুবই অসহযোগিতা ও অযত্ন পান রোগী। রোগী হাসতে ভুলে যান, একাকিত্বে ভোগেন, অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ক্যানসারে ভোগা রোগীর সবচেয়ে বেশি দরকার ভালবাসা। তাঁকে বাঁচতে শেখাতে হবে, মনের জোর এতটাই শক্তপোক্ত হবে যে মৃত্যুকেও ছিন্নভিন্ন করবে অবলীলায়। হাত বাড়িয়ে দিন, আপনার হাত ধরেই হয়ত জীবন ফিরে পাবে আরও একজন। সেটাই হবে সেরা জয়। পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'

```