গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে, সংসারের বাজেট সামলাবেন কী করে?
ভাস্বতী দত্ত
গ্যাসের দাম (Cooking Gas) আকাশ ছুঁইছুঁই। ৮৮৬ থেকে সোজা ৯১১। এটা আবার এমন একটা বস্তু যে দরদাম করার কোনও সুযোগ নেই। সরকার যা দাম ধার্য করবে, সেটাই দিতে হবে।
এই অবস্থায় সাশ্রয়ই একমাত্র পথ। অর্থাৎ গ্যাস খরচ কমিয়ে সংসারের খরচ ন
শেষ আপডেট: 1 September 2021 14:19
ভাস্বতী দত্ত
গ্যাসের দাম (Cooking Gas) আকাশ ছুঁইছুঁই। ৮৮৬ থেকে সোজা ৯১১। এটা আবার এমন একটা বস্তু যে দরদাম করার কোনও সুযোগ নেই। সরকার যা দাম ধার্য করবে, সেটাই দিতে হবে।
এই অবস্থায় সাশ্রয়ই একমাত্র পথ। অর্থাৎ গ্যাস খরচ কমিয়ে সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। দেশের অর্থমন্ত্রী একজন মহিলা। একটা কথা কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা সংসারি মহিলারা সকলেই কিন্তু অর্থমন্ত্রী। দেশের আর্থিক হাল খারাপ হলে অনেক উপায় আছে পরিস্থিতি সামলানোর। সরকার দেদার বাজার থেকে ধার করে। অর্থমন্ত্রীর অনেক পরামর্শদাতা আছেন। সংসারের বাজেট কিন্তু আমাদেরই সামলাতে হয়। আমরা চাইলেই ধারকর্জ করতে পারি না। অতএব আমাদের বাজেট ম্যানেজমেন্ট আমাদেরই ঠিক করতে হবে।
আর সেটা সম্ভব জিনিসপত্র যথা সম্ভব কম খরচ করে। অর্থাৎ খরচ কমানো। এটা শুধু চলতি পরিস্থিতি সামলানোর জন্যই নয়, সব সময় উচিত যতটা সম্ভব সাশ্রয় করা।
আমাদের মতো মধ্যবিত্ত বাড়িতে রান্না হয় দিনে মূলত দু'বার। লাঞ্চ ও ডিনার তৈরির জন্য। এছাড়াও সারাদিন এটা সেটা রান্না চলতেই থাকে। চা বানাতেই তো কতবার গ্যাস জ্বালাতে হয়!
আরও পড়ুন: ছ্যাঁকা দিচ্ছে দাম, গ্যাস খরচ কমাবেন কী করে, জানুন সহজ কিছু টিপস
আমরা ঠিক করেছি, দিনে দু'বার চা হবে। একবার সকালে আরেকবার বিকেলে। এগুলো সবই বোঝাপড়ার ব্যাপার। প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হবে। তারপর সব মিটে যাবে। এইভাবে গ্যাসের খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এ তো গেল হালের সিদ্ধান্ত। করোনাকালে বাজারের অবস্থা বেশ কিছুদিন যাবৎ খুব খারাপ। সংসার টানতে হচ্ছে মেপে। তার উপরে হঠাৎ হঠাৎ গ্যাসের দাম বাড়ছে। এবার যেমন একলাফে ২৫ টাকা বেড়ে গেল। এত দাম বেড়ে যাওয়া আমাদের মতো ঘরে, দা-এর কোপের মতো এসে পড়েছে। খুব স্পষ্টভাবে বলতে গেলে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই এইভাবে গ্যাসের দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
প্রতিটা গৃহস্থ ঘরেই গ্যাসের প্রয়োজন। ফলে কারও পক্ষে গ্যাস ছাড়া সংসার চালানো সম্ভব নয়। তবু এই অবস্থায় দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এককথায় বলা চলে আনতে বাধ্য হয়েছি।
যেমন, দিনে দু'বারের পরিবর্তে রান্না একবেলা করছি। সকালেই একেবারে তিনবারের রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিচ্ছি। একদিনে দু'দিনের রান্নাও করে রাখছি। এভাবে গ্যাস কিছুটা সাশ্রয় করছি।
ব্রেকফাস্টেও খানিক পরিবর্তন এনেছি। প্রায়ই চেষ্টা করছি নন-কুক আইটেম দিয়ে ব্রেকফাস্ট করতে। যেমন চিড়ে, মুড়ির কোনো পপ্রিপারেশন। পাউরুটি সামান্য সেঁকে নিয়ে ভালো ব্রেকফাস্ট হতে পারে। তাতে গ্যাসের খরচ কম হয়। এসব কিন্তু খুবই প্রচলিত ছিল একটা সময়। পুরনো অভ্যাস ফেরানো গেলে গ্যাসের সাস্রয় হবেই। এখন এই বিকেলের টিফিনেও মুড়িই চলে।
প্রথম প্রথম মনে হয়েছিল গ্যাসের দাম যেহেতু বাড়ছে তাই ইন্ডাকশন কুকার একটা বিকল্প হতে পারে। তবে ইলেক্ট্রিক বিল আসার পর থেকে সে রাস্তায় ছাড়তে হয়েছে।
গ্যাস সাশ্রয়ের আরও কিছু উপায় আছে। সেগুলি ব্যবহারিক জীবনে কাজে আসবে। যেমন, ধরা যাক, রান্নার সময় তরকারি কিংবা ভাত, যেটাই করা হোক, একবার ফুটতে শুরু করলে তারপর আঁচ কমিয়ে দিলেই চলে। ফুল আঁচ দরকার পরে না।
যে পাত্রে রান্না করা হয়, তা দু'পিঠই খুব ভাল করে রোজ পরিস্কার করা দরকার। হাড়ি কড়াইতে রান্নার কালি জমতে শুরু করে তাহলে রান্না হতে সময় বেশি লাগবে। তাতে গ্যাস বেশি খরচ হয়। তাছাড়া যে সব খাবার রান্না করতে সময় বেশি লাগে সেগুলি কিছু দিনের জন্য কম খাওয়া হলেও গ্যাসের সাশ্রয় সম্ভব। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যাদের মাসে দুটো সিলিন্ডার লাগে তারা একটু চেষ্টা করলে প্রথম মাসেই অন্তত এক চতুর্থাংশ খরচ কমিয়ে আনতে পারবেন। কয়েক মাস চেষ্টা করলে দেখবেন, গ্যাসের খরচ অর্ধেক হয়ে গেছে।
তাই যে কথা বলছিলাম, রান্নার গ্যাসের দাম যেহেতু কমানোর কোনও রাস্তা আমাদের হাতে নেই, তখন সাশ্রয় অর্থাৎ কম খরচই একমাত্র পথ। একবার অভ্যাস হয়ে গেলে দেখবেন কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
আমার মতে কেন্দ্রীয় সরকারের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দিকে একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন। এভাবে যদি জিনিসপত্রের দাম বাড়ে তবে তো আর মানুষ খেয়ে পড়ে বাঁচতেই পারবে না।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'