দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দক্ষিণের উলুবেড়িয়া থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি পর্যন্ত যে বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে বিশদে জানতে আজ সোমবার সকাল দশটায় রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীবা সিনহা ও রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে রাজভবনে তলব করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।
রবিবার বিকেলেই রাজ্যপাল বলেছিলেন, বাংলা জুড়ে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে তা উদ্বেগজনক। সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন নিয়ে আপস করা হচ্ছে। ধনকড় জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে নবান্নের অবস্থান ও তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সে কারণেই মুখ্যসচিব ও ডিজিকে তলব করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, মুখ্যসচিব ও ডিজি রাজ্যপালের তলবে সাড়া দিয়ে রাজভবনে যাবেন কিনা!
এ ব্যাপারে শাসক দল থেকে শুরু করে প্রশাসনের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তা আজ সকাল ১০টায় যে রাজভবনে যাবেন, এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দেখা গিয়েছে রাজ্যপাল কোনও জেলা সফরে গিয়ে সেখানকার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের ডেকে পাঠালেও তাঁরা যাচ্ছেন না দেখা করতে। শাসক তথা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শেই তাঁরা তা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন সকালেই মুখ্যমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল, একই সঙ্গে প্রসংশা করেছেন বিদ্বজ্জনদের।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1206385868606341120
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1206376447838801921
রবিবারও রাজভবনের তলব পাওয়ার পরে মুখ্যসচিব, ডিজি সহ পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা সরকারি তরফে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রশাসনিক সূত্রে শুধু বলা হয়েছে, রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে সজাগ থাকতে বলেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যসচিব ও ডিজি যদি রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে না যান, তা হলে বুঝতে হবে এসপার-ওসপার সংঘাতের পথেই যেতে চাইছে তৃণমূল। রাজভবন তথা কেন্দ্রের সরকারের সঙ্গে সংঘাত ক্রমশই তীব্র করে তুলতে চাইছে নবান্ন। এবং তা আপসহীন সংঘাতের পথেই হয়তো নিয়ে যেতে চান তাঁরা।
তার বার্তা অবশ্য ইতিমধ্যেই কিছুটা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের তরফে বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বাস্তবায়ন হবে না। কেন্দ্রীয় আইনকে রাজ্যে বাস্তবায়িত করা হবে না—এমন কথা বলার সাংবিধানিক এক্তিয়ার কোনও রাজ্যেরই নেই। তার পরেও মুখ্যমন্ত্রী জেনে বুঝে যখন তা করছেন, তখন নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এবং তা হতে পারে, নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতার প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে মাত্রা বাড়ানো।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরকম বিজ্ঞাপন দেওয়া সংবিধানবিরোধী। জনগণের স্বার্থে এই বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী তথা সরকারকে তা প্রত্যাহার করতেই হবে। এ বিষয়ে নোট পাঠিয়ে নবান্নের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন তিনি। কিন্তু রাত পর্যন্ত নবান্ন বা মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও সাড়া যে পাওয়া যায়নি বলেও রাজ্যপাল জানিয়েছেন।
অনেকেই মনে করছেন, এর অর্থ হল, রাজ্যপালের পরামর্শ বা বক্তব্যকে কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না নবান্ন। এর পর মুখ্যসচিব ও ডিজি রাজভবনে উপস্থিত না হলে সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।