দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করার জন্য শিক্ষকদের থেকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল হাওড়ার ডোমজুড় সার্কেলের স্কুল ইনস্পেক্টর অমরেশ মজুমদারের বিরুদ্ধে। অথচ স্কুলে স্কুলে এসে পৌঁছনো সরকারি নির্দেশ স্পষ্ট বলছে, প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের স্পোর্টসের জন্য প্রতি সার্কেলে এক লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে। ওই অর্ডারে এ-ও লেখা রয়েছে, স্পোর্টসের জন্য স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া যাবে না।
দেখুন সেই অর্ডারের কপি।

কিন্তু ডোমজুড় সার্কেলের স্কুল ইনস্পেক্টর অমরেশ মজুমদার সম্প্রতি এলাকার একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খোলা মঞ্চে দাবি করেন, "আমাদের মুখের দিকে চেয়ে সকলকে চাঁদা দিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।" শুধু তাই নয়, ওই মঞ্চ থেকে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন, “সরকারের নির্দেশিকা থাকলেই হল না। ডোমজুড় সার্কলের রীতি মেনে আগে যেমন টাকা দিয়েছেন শিক্ষকেরা, তেমনটাই দিয়ে দিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।”
অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর বলা এই কথার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ডোমজুড় সার্কেলের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেককেই টাকা দিতে হয়েছে স্পোর্টসের জন্য।
এ বিষয়ে জানার জন্য অমরেশ মজুমদারকে ফোন করা হলে 'দ্য ওয়াল'কে তিনি বলেন, "আমার বিরুদ্ধে বিকৃত অভিযোগ আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে যা বলার ফেসবুকে বলা হয়েছে।"
কিন্তু ফেসবুকে এ বিষয়ে কোন পোস্টের কথা বলছেন অমরেশবাবু? নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক দাবি করেন, একটি দৈনিক সংবাদমাধ্যমে অমরেশবাবুর এই চাঁদা তোলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে সেই সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে খবরটি শেয়ার করা হয়। সেই খবরের কমেন্ট সেকশনে গিয়ে, অমরেশবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে, সকলকে মন্তব্য করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের হাওড়া শাখার সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ।
প্রাথমিক শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর দেওয়া সেই নির্দেশও শিক্ষকদের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, ইচ্ছের বিরুদ্ধে, সংগঠনের চাপে পড়ে মিথ্যে বলতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
কৃষ্ণবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টেলিফোনে 'দ্য ওয়াল'কে কৃষ্ণবাবু বলেন, "অমরেশবাবু কাউকে টাকা দিতে জোর করেননি, অনুরোধ করেছেন কেবল। সার্কেলের স্পোর্টসে মোট ২৮টা ইভেন্ট হয়। প্রতিটা ইভেন্টে তিন জন করে বিজয়ী ঘোষণা হয়। তাদের ট্র্যাকস্যুট, জুতো কিনতে হয়। এছাড়া প্রায় হাজার দুয়েক শিক্ষক-শিক্ষিকার খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। এত কিছু সরকারের দেওয়া টাকার মধ্যে করা সম্ভব হয় না। তাই ও (অমরেশবাবু) সহযোগিতা করতে বলেছে সকলকে।"
কৃষ্ণবাবু আরও জানান, এই খরচের আধিক্যের ব্যাপারে পর্ষদকে তাঁরা জানিয়েছেন। পর্ষদের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত খরচ পরে দিয়ে দেওয়া হবে (রিইমবার্স) বলে। তার পরেও অমরেশবাবু কেন চাঁদা দেওয়ার অনুরোধ করলেন শিক্ষকদের। সেই সঙ্গেই প্রশ্ন ওঠে, কোনও সরকারি পদাধিকারীর বক্তব্যের দায় তো তাঁর নিজের। সে বক্তব্যের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংগঠন সভাপতি কৃষ্ণবাবু কেন শিক্ষকদের আলাদা করে নির্দেশ দিলেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে?
কৃষ্ণবাবুর যুক্তি, "অমরেশ যা বলেছে আমি তা সাপোর্ট করছি না, কিন্তু ও ভুল কিছুই বলেনি। তাই আমি আমার সংগঠনের শিক্ষকদের পাশে থাকতে বলেছি।"
সরকারি সূত্রের খবর, অন্য সার্কেলের মতোই নিয়ম মেনেই এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে ডোমজুড় সার্কলেও। ওই বরাদ্দ থেকেই প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত স্তরে প্রাথমিক স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার জন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা, যাতে এত দিন ধরে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে যেভাবে স্পোর্টস হত, সে প্রথা বন্ধ হয়। কিন্তু অভিযোগ সেই বরাদ্দ টাকা দিতে চাইছেন না এসআই অমরেশ মজুমদার। তাই কার্যত জোর করে চাঁদা তোলা হচ্ছে, যাতে শিক্ষকরা অধিকাংশই অসন্তুষ্ট হলেও, চাপে পড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁদের দেওয়া চাঁদার বিনিময়ে কোনও বিলও দেওযয়া হয় না স্কুলের তরফে। ফলে এই টাকা তোলার কোনও প্রমাণই রাখা হচ্ছে না।