দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: আগুনে যাবতীয় নথি পুড়ে ছাই গেল তুরকা বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের। ফলে চিন্তায় পড়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ নম্বর ব্লকের তুরকায় ওই গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। শনিবার সকালে সেখানে আগুন লাগে। তখনই এলাকায় লোকজন তা দেখতে পেয়ে আগুন নেভানোর টেষ্টা করতে থাকেন। ব্যাঙ্কের ম্যানেজার ও কর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, ব্যাঙ্কের ভেতর কোনও ভাবে শর্ট সার্কিট হওয়ার ফলেই আগুন লেগে গিয়েছিল।
আগুন লাগার খবর পেয়েই দাঁতন থানার পুলিশ প্রশাসন চলে আসে। এলাকাবাসীর সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান তাঁরাও করে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্যাঙ্কের ম্যানেজার সুধীররঞ্জন খান্না বলেন, “এমনিতেই আজ ছুটির দিন। তাই আমরা কেউই আজ অফিসে ছিলাম না। অফিস বন্ধ ছিল। আজ সকাল দশটা নাগাদ স্থানীয়রা ব্যাঙ্কের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন তাঁরাই খবর দেন। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাঙ্কের এক ক্যাশিয়ার বলেন, “ভেতরে থাকা প্রায় সব কিছুই পুড়ে গেছে। কম্পিউটার, পাখা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ক্যাশ কাউন্টার এমনকি টাকা গোনার মেশিন পর্যন্ত। কিছুই নেই।” ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের ফলে এই আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে কী ভাবে আগুন লেগেছে সে কথা হয়তো বলতে পারবেন দমকল কর্মীরা।
ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও দমকল আসতে পারেনি। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ প্রশাসনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি এখনও পেপারলেস হয়নি। তাছাড়া বহু নথি থাকে কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে। ক্লাউডে রাখার পদ্ধতি এখনও সে ভাবে চালু হয়নি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এই অবস্থায় ব্যাঙ্কের ভিতরে থাকা অধিকাংশ নথি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের কার কত টাকা জমা আছে সেই তথ্য তাঁদের কাছে থাকা পাসবইয়ে থাকবে। কিন্তু ব্যাঙ্ক থেকে কেউ ঋণ নিয়ে থাকলে এখন ঋণ গ্রহীতার থেকে তা আদায় করা মুশকিল হতে পারে। এক্ষেত্রে ভরসা ইমেলে থাকা নথি। তবে গ্রামাঞ্চলে এখনও সেভাবে ইমেলে নথি পাঠানো হয় না। পুরো পরিস্থিতি নিয়ে ঘোর চিন্তায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার থেকে কর্মী, সকলেই।