দ্য ওয়াল ব্যুরো: শোকের বোঝা সীমাহীন। কিন্তু কর্তব্যেও অবিচল সন্তানহারা বাবা। কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ছেলের। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি এখনও। তবে ছেলের দেহ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন খবর পাওয়া মাত্রই। প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সির জন্য ছেলের দেহ আরজি করে দান করলেন বাবা। ব্যক্তিগত শোক ছাপিয়ে মানবিকতার জয় হল আরও একবার।
উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার পদ্মপুকুর এলাকার বাসিন্দা সৈকত পালের মৃত্যু হয়েছে করোনা সংক্রমণে। বয়স ৪১ বছর। গত ২১ দিন ধরে চার্ণক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার তাঁকে এম আর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সূত্রের খবর, সেখানেই রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ মৃত্যু হয় সৈকতের।
সৈকতের বাবা সরোজবাবু জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘসময় ধরেই মরণোত্তর চক্ষুদান ও অঙ্গদান সম্পর্কিত কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েই ঠিক করেছিলেন চিকিৎসা সংক্রান্ত ময়নাতদন্ত বা প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সির জন্য দেহ দান করবেন। সৈকতেরও নাকি এমনই ইচ্ছা ছিল বলে জানিয়েছেন সরোজবাবু।
দুরারোগ্য রোগ বা সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যু হলে, মৃতের শরীর কাটাছেঁড়া করে দেখা হয় কী থেকে রোগ ছড়িয়েছে, সেই রোগের ধরন কী, শরীরে কতটা প্রভাব পড়েছে ইত্যাদি। চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার জন্য মৃতের শরীরে যে ময়নাতদন্ত বা অটোপ্সি করা হয় তাকেই বলে প্যাথোলজিক্যাল অটোপ্সি। শরীরের ব্যবচ্ছেদ করে, কোষ-কলা, বিভিন্ন অঙ্গ পরীক্ষা করা হয় এই ধরনের ময়নাতদন্তে। সাধারণত সংক্রমণজনিত অসুখে মৃত্যু হলে এই ধরনের অটোপ্সি করে থাকেন ডাক্তাররা।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে মরণোত্তর দেহ দান আন্দোলনের পথিকৃত ব্রজ রায়ের শরীরের প্রথম প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি করা হয়। সেই রিপোর্টও কোভিড গবেষণার কাজে লাগবে বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, করোনা সংক্রমণ কীভাবে মানুষের ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করছে। মারণ ভাইরাস শরীরে ঢুকে কীভাবে শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখিয়েছে, মানুষের শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে ফুসফুসের আস্তরণ নষ্ট করে ফেলছে ভাইরাস। ক্ষতি হচ্ছে ফুসফুসের কোষগুলির। অক্সিজেন ঢোকা ও কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা বাধা পাচ্ছে। সে কারণেই রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। এই ধরনের তথ্য আগামী দিনে করোনা সংক্রমণ রোখার উপায় হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকার এখন কোভিডে মৃতদের শরীরে প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি করার অনুমতি দিয়েছে। স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজেই প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালেও কোভিডে মৃতদের শরীরে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।