দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিল টলিপাড়ায়। শুক্রবার থেকে বন্ধ হয়ে গেল জি বাংলা ও সান বাংলার সব ধারাবাহিকের শ্যুটিং। জানা গিয়েছে, ফেডারেশনের তরফে এই খবর জানানো হয়েছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে। এই খবরে হতবাক কর্তারা। তবে করোনা আতঙ্কের জন্য কিন্তু এবার শ্যুটিং বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়েছে টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদের জন্য।
জানা গিয়েছে, ফেডারেশন ও চ্যানেলের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদের জেরে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোনা অতিমারীর সময় দু’মাসের উপর কাজ বন্ধ ছিল। সেই সময় আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল টেকনিশিয়ানদের। তাই চ্যানেলের তরফে নাকি টেকনিশিয়ানদের এককালীন একটা টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা এখনও তাঁরা পাননি।
ফেডারেশনের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতি দিনই চ্যানেলগুলিকে জানানো হত এই টাকার কথা। বারবার কর্তারা বলতেন, টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। সেই আশায় কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে অসন্তোষ বাড়ছিল টেকনিশিয়ানদের মধ্যে। তাই এবার তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চ্যানেলের তরফে তাঁদের টাকা দেওয়ার একটা দিন জানিয়ে দেওয়া হোক। তাহলেই আর কোনও সমস্যা থাকবে না। ফের তাঁরা কাজ শুরু করবেন। কিন্তু যতদিন না সেই দিন ঘোষণা করা হচ্ছে, ততদিন তাঁরা কাজ করবেন না বলেই জানিয়েছেন।
চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আবার বিষয়টি অন্যভাবে দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, চ্যানেলের তরফে যে টাকার কথা বলা হয়েছে তা আসবে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির মাধ্যমে। এটা একটা কর্পোরেট মাধ্যম। এই মাধ্যমে টাকা আসতে সময় লাগে। কিন্তু তাই বলে শ্যুটিং বন্ধ করার কোনও মানে হয় না। শ্যুটিং বন্ধ করে দিলে তো রোজের ভিত্তিতে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাও টাকা পাবেন না। তাতে কার কী লাভ হবে।
চ্যানেলের এই দাবি খারিজ করে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে ফেডারেশনের তরফে। তারা জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের মধ্যে শ্যুটিং শুরু হওয়ার আগে যখন বৈঠক হয়েছিল, তখন ঠিক হয়েছিল সব ধারাবাহিককে কলাকুশলীদের একটা করে স্বাস্থ্যবিমা করতে হবে। এখনও অনেক ধারাবাহিক তা পূর্ণ করেনি। তারপরেও শ্যুটিং চলছে। যদি কারও কিছু হয় তাহলে তার দায় কে নেবে? ফেডারেশনের মতো চ্যানেলগুলিরও উচিত এগিয়ে আসা।
করোনা সংক্রমণের কারণে বহুদিন শ্যুটিং বন্ধ থাকায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের মুখ খুলতেও দেখা গিয়েছিল। তাই ফের শ্যুটিং শুরু হতেই সবাই হাসিমুখে ফ্লোরে ফিরেছিলেন। কিন্তু ফের একবার বন্ধ হয়ে গেল করুণাময়ী রাণী রাসমণি, নেতাজি, কাদম্বিনীর মতো ধারাবাহিক। এতে যেমন কলাকুশলীরা সমস্যায় পড়লেন, তেমনই লকডাউনের মধ্যে ধারাবাহিকের মনোরঞ্জন থেকে বঞ্চিত হলেন আম বাঙালি।