দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নামে রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা যোজনার রেশন কার্ড তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে সঞ্জয় মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল আউশগ্রাম থানার পুলিশ। ধৃত সঞ্জয়ের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ডাঙাপাড়া গ্রামে। বুধবার সকালে ভেদিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে তিন দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
আউশগ্রামের ছোড়া কলোনির বাসিন্দা জনৈক মনোজ রায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ছোড়া কলোনিতে সপরিবারে বাস করেন মনোজ।
মনোজ রায়ের অভিযোগ, তাঁর বাবাকে জীবিত বলে দেখিয়ে বেশ কয়েক জনের নামে রেশন কার্ড বানিয়েছেন অভিযুক্ত সঞ্জয় মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ সুমিত্রা রায়, অসীম রায়, পরিমল রায় নামের ব্যক্তিরা তাঁদের পরিবারের কেউ নন, তাঁদের আত্মীয়ও নন। অথচ ওই পরিবারের কর্তা হিসাবে তাঁর বাবা মহিম রায়কে দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ১১ মে ৬৩ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন মহিম রায়। অথচ ওই রেশন কার্ড অনুযায়ী তাঁর বাবা জীবিত এবং বয়স ৫০ বছর।
মনোজের অভিযোগ সুমিত্রা, পরিমল ও অসীম আদতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের নামে করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনার ডিজিটাল রেশন কার্ড।
জালিয়াতির কথা মনোজ রায় জানতে পারেন কিছুদিন আগে। অপরিচিত দু’জন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে সঞ্জয় মণ্ডল হাজির হন মনোজ রায়ের ফটোকপির দোকানে। মনোজ বলেন, “ওই দিন সঞ্জয় মণ্ডল নিজেকে খাদ্য দফতরের কর্মী বলে পরিচয় দেন এবং সঙ্গের দুই ব্যক্তিকে নিজের আত্মীয় বলে জানান।” একথা শুনে সন্দেহ হওয়ায় মনোজ অপরিচিত তিন জনের রেশন কার্ডের ফটোকপি করে নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর ব্লকের খাদ্য দফতরে গিয়ে সবিস্তার খোঁজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হন যে ওই কার্ডের মালিকরা আদতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।
মঙ্গলবার মনোজ রায় আউশগ্রাম থানায় সঞ্জয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়ার পরে অভিযুক্ত সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, “আমি ব্লক খাদ্য দফতরের অফিসে কাজকর্ম করি। ওই ব্যক্তিরা রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানি। তবে ওঁদের রেশন কার্ড কী ভাবে হয়েছে তা আমার জানা নেই। সেটা অফিসের কর্তারা বলতে পারবেন।”
রেশনকার্ড জালিয়াতিতে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে জানতে ধৃতকে জেরা শুরু করেছে পুলিশ।