
শেষ আপডেট: 17 June 2019 08:04
ঠিক সাত দিন আগে, ১০ জুন এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতাল চত্বর। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আনে তাঁর পরিবার। মুহূর্তে রণক্ষেত্রে হয়ে ওঠে হাসপাতাল। ইন্টার্ন, জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে তুমুল মারামারি হয় রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের।
দু'পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ইটের আঘাতে মাথা ফাটে পরিবহর। খুলিতে গুরুতর চোট পান তিনি। তুবড়ে যায় ফ্রন্টাল লোব। আহত ইন্টার্ন ভর্তি হন ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে। গত মঙ্গলবার ঘণ্টা দুয়েক ধরে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। মৃত্যুকে ছুঁয়ে ফিরে এসেছেন বছর চব্বিশের এই তরুণ। নিজে মুখে আগেই জানিয়েছিলেন ভালো আছেন তিনি। এ বার মেডিক্যাল বুলেটিন দিয়ে ডাক্তাররাও জানালেন অবস্থার উন্নতি হচ্ছে পরিবহর।
হাসপাতালের মধ্যেই রোগীর পরিবারের হাতে ডাক্তারদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় গর্জে ওঠে সারা বাংলা। অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন ইন্টার্ন এবং জুনিয়র ডাক্তাররা। পাশ দাঁড়ান বিভিন্ন রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের জুনিয়র এবং সিনিয়র ডাক্তারার। রাজ্য জুড়ে বইতে থাকে গণ ইস্তফার ঝড়। শরীরী ভাষায় আন্দোলনকারীরা বুঝিয়ে দেন, "অনেক হয়েছে আর নয়। এ বার শেষ দেখে ছাড়ব।" প্রশাসনকে ডাক্তারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই হবে, এই দাবিতে সরব হন ডাক্তাররা।
গত সাত দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে আউটডোর। ডাক্তারদের দাবি, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হলে অবস্থান-বিক্ষোভ উঠবে না। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও রোগীদের জরুরি পরিষেবা দিয়েছেন তাঁরা। অবশেষে অনেক টালবাহানার পর সোমবার দুপুর ৩টেয় ২৮ জন ডাক্তারের প্রতিনিধি দল নবান্নে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অচলাবস্থা কাটানোর জন্য বৈঠক করতে হাজির হবেন এই প্রতিনিধি দল। রফাসূত্রে বেরোয় কি না তা বলবে সময়। তবে গোটা রাজ্যের নজর এখন নবান্নের এই বৈঠকের উপর।