দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাঁরা মহৎ উদ্দেশ্যে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁদেরকেই শহিদ বলি আমরা। তবে ২০২১ সালের 'ডক্টরস ডে'-তে শহিদের সংজ্ঞায় অন্য মাত্রা যোগ হল। কোভিডে প্রাণ হারানো ডাক্তারদের শহিদের মর্যাদায় স্মরণ করলেন শহরের বিদ্বজ্জনেরা।
করোনাকালে চিকিৎসকরা নিজেদের প্রাণের পরোয়া না করেই রোগীর সেবা করে গেছেন। সেবায় বিরাম নেই এখনও। কোভিড ওয়ার্ডে অচেনা অজানা মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে তাঁরা নিজেদের প্রাণ বাজি রেখে ক্রমাগত লড়ে যাচ্ছেন। তবে বলা বাহুল্য, এই ভাইরাসের কবল থেকে ওঁরাও নিরাপদ নয়।
পরিসংখ্যান বলছে, দেড় বছরের এই করোনা পর্বে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চিকিৎসক ভাইরাসের বলি হয়েছেন। এর মধ্যে গত বছর ৭৪৮ জন ও বিগত ৯ সপ্তাহে প্রায় ৭৭৬ জন চিকিৎসককে আমরা হারিয়েছি। মানবসেবার ব্রতে ব্রতী হয়ে ডাক্তাররা নিজেরাই তলিয়ে গেছেন মৃত্যুর আঁধারকোলে। লড়াইটা ছিল নেহাতই অসম।
এই মৃত্যুর পর কিন্তু তাঁদের শহিদদের মতো গান স্যালুট দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। বরং দেহ এসেছে প্যাকেটে মুড়িয়ে আর পাঁচটা কোভিডে মৃত মানুষের মতোই।
রোজকার জীবনে যে মানুষগুলোর হাত ধরে আমরা সুস্থতার নিশ্চয়তা পাই, দুর্ঘটনায় বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে প্রাণের ঝুঁকি হলে যাঁদের ভরসায় আমরা বাঁচার স্বপ্ন দেখি, যাঁদের ভরসায় নবজাতককে ঘুমঘোর থেকে জেগে নতুন সকাল দেখায় মা, তাঁরা হলেন ডাক্তার, নার্স আর স্বাস্থ্যকর্মী।
বিগত দু'দশক ধরে বহু দৃশ্য দেখেছি আমরা। কোথাও দেখেছি, রোগী মৃত্যুর জন্য ডাক্তারকে দায়ী করে পেটানো হচ্ছে, আবার কোথাও চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। তবে করোনা পর্বের একেবারে প্রথম থেকে যে মানুষগুলোকে ভরসা করে এই অন্ধকার থেকে আলোর পথ খুঁজেছি আমরা, তাঁরা চিকিৎসক।
আজ ১লা জুলাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসক ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুদিনে প্রতিবছরের মতো এবারেও পালিত হয়েছে ডক্টরস ডে। 'ডক্টরস ডে'-তে কোভিড প্রয়াত সেই হিরোদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের ফেসবুক পেজে একসঙ্গে গলা মেলালেন বিদ্বজ্জনেরা। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, সন্ধ্যাদেবী, যীশু সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, পদ্মনাভ দাসগুপ্তর মতো চিত্রতারকা, পরিচালক থেকে শুরু করে কবি শ্রীজাত, অনুপম, অরিজিৎ, শ্রীকান্ত আচার্য, লোপামুদ্রার মতো সঙ্গীতশিল্পী সকলেই। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সৌরভ গাঙ্গুলি, রেডিও জকি অগ্নিরাও।
প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ব্যক্ত করেন এই দুর্দিনে চিকিৎসকদের অপরিসীম দানের কথা। তাঁরাও যে জনস্বার্থের মহৎ উদ্দেশ্যে মৃত্যু বরণ করেছেন, তাঁরাও যে শহিদ, তা ফুটে উঠেছে গুণীজনদের এই শ্রদ্ধার্ঘ্যে।