
শেষ আপডেট: 25 January 2020 14:47
পদ্ম পুরস্কারের প্রচলন থেকে এ যাবৎ বহু চিকিৎসক পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলার ও বাঙালি অনেক চিকিৎসকও রয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁদের অসীম অবদান। কিন্তু অরুণোদয় মণ্ডল যেন অনন্য! এবং তা এই কারণেই যে নিঃস্বার্থ ভাবে সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
প্রতি সপ্তাহের শেষে কলকাতা থেকে ছ’ঘণ্টার পথ পেরিয়ে অরুণোদয়বাবু চলে যান সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায়। তাঁর অপেক্ষায় থাকেন শয়ে শয়ে রোগী। তাঁদের বেশিরভাগই গরিব, দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন। শনিবার সেখানেই রাত কাটিয়ে রবিবার সকাল থেকে ফের রোগী দেখা শুরু করেন তিনি।
বিরাটিতে বাড়ি অরুণোদয়বাবুর। শনিবার সক্কাল সক্কাল হাসনাবাদ লোকালে উঠে পড়েন। সঙ্গে ওষুধের ব্যাগ। তার পর হাসনাবাদ স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ভ্যান রিকশয় পৌঁছন নদীর ঘাট পর্যন্ত। নৌকোয় নদী পার হয়ে বাসে দেড় ঘণ্টার পথ লেবুখালি। আবার নৌকোয় রায়মঙ্গল নদী পার হয়ে দুলদুলির ঘাট। সেখান থেকে অটোতে সাহেবখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়পাড়ায় তাঁর 'সুজন চিকিত্সা কেন্দ্র'। অরুণোদয়বাবু এতোদিনে সুন্দরবনের সুজন বলেই পরিচিত হয়ে গিয়েছেন।
যাঁরা ডাক্তারবাবুর মুখ চেয়ে থাকেন তাঁদের অধিকাংশই আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া। দারিদ্রসীমার নীচে থাকা মানুষ। শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়াই নয়। তাঁদের ওষুধও জোগার করে দেন অরুণোদয়বাবুই। নিয়ম করে চলে রক্তদান শিবির।
এবার পদ্ম পুরস্কার ঘোষণার ক্ষেত্রে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দর্শন একেবারে পরিষ্কার। নামী দামীদের সম্মানিত করার পরিবর্তে সরকার এগিয়ে এসেছে অনামীদের খুঁজে আনতে। যাঁরা এক প্রকার নীরবে সমাজের সেবা করে চলেছেন।