দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার : তাঁকে কাকা বলে ডাকেন কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়। তাঁকে কাকা বলে ডাকেন জেলা পরিষদ সদস্যা ও জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী সুচিস্মিতা দেব শর্মা। তাঁকে কাকা বলেন ডাকেন জেলা তৃণমূলের আরও কয়েকজন। এত দিন ধরে তাঁরা ডেকেও অভ্যস্থ। আর তিনি শুনে। কিন্তু এ বার থেকে আর কাকা ডাক শুনতে চান না উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এই ইচ্ছের কথা তিনি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন বলে ভাবছেন যাঁরা, একটু ভুল করে ফেললেন।
রবিবাসরীয় সকালে একেবারে সাংবাদিক বৈঠক করে রবি ঘোষ তাঁর ’ভাইপো-ভাইঝিদের’ উদ্দেশে বললেন, ’’হাতজোড় করে বলছি, আগামী দিনে আমাকে কেউ যেন কাকা বলে না ডাকে। মামা বলে ডাকুক, জ্যাঠা বলে ডাকুক, পিসে বলে ডাকুক। কিন্তু কাকা নয়।’’
কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত অনুরোধ ?
রবীন্দ্রনাথবাবুর কথায়, ’’নিশ্চই কারণ আছে। কারণ না থাকলে বলব কেন ?’’
তাঁর এমন অনুরোধে দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন তৃণমূলের অন্দরে তাঁকে কাকা বলে ডাকা লোকজন। কারণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁর আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জেলার মানুষজন। আর তা খুঁজতে গিয়েই চলছে, যাঁরা তাঁকে কাকা বলেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের কাঁটাছেড়া। রবিবাবুকে কাকা বলে ডাকেন পার্থ প্রতিম রায়। কোচবিহারের সাংসদের রাজনীতিতে হাতেখড়ি রবিবাবুর হাত ধরেই। উত্থানও। কিন্তু বর্তমানে যে তৃণমূল মাদার আর যুবর নিত্য সংঘাতে কোচবিহারবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত সেই মাদারের দায়িত্ব রবীন্দ্রনাথবাবুর কাঁধে। আর যুব সামলাচ্ছেন পার্থবাবু। পুরোটাই যে চলছে সহনশীলতা আর সহমর্মিতার আবহে দুজনের অতি বড় ঘনিষ্টও বলবে না তা।
ইদানিং সুচিস্মিতার সঙ্গে রবিকাকার সম্পর্কেও টানাপড়েনের চোরা স্রোত টের পাচ্ছেন কাছেপিঠে থাকা নেতা কর্মীরা। কাকা বলে ডাকেন পঞ্চায়েত সমিতির জয়ী সদস্য আইজুল হক। তবে কি তাঁর সঙ্গেও সম্পর্কের ফাটল ? তাতেই কি অভিমান এত গাঢ় ? কাকা ডাকের প্রতি এত তীব্র বিরক্তি ?
কারণ হাতরাচ্ছেন যে যাঁর মতো। সাংসদ পার্থ প্রতিম রায় অবশ্য বললেন , "বাবা তো বাবাই হয় আর কাকা কাকাই। "
https://www.youtube.com/watch?v=0og6ht_eD0s