
শেষ আপডেট: 25 October 2021 10:28
রবিবার, চম্পাহাটির হাড়লের বাজি বাজার কার্যত ফাঁকা ছিল। তাই মাথায় হাত বাজি ব্যবসায়ী এবং কারখানা মালিকদের। কয়েক লক্ষ টাকার বাজি নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা চম্পাহাটির বাজি ব্যবসায়ীদের। মূলত দুর্গাপুজার অনেক আগে থেকেই হাড়ালে শুরু হয়ে যায় বাজি তৈরির জোরদার প্রস্তুতি। কিন্তু এই চিত্র এখন সম্পূর্ণ উধাও। চলতি মরসুমের টানা বৃষ্টি ঘুম কেড়ে নিয়েছে ব্যবসায়ীদের। বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর নতুন বাজি তৈরি করতে পারেননি। গত বছরের অবিক্রিত বাজিতেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে।
দক্ষিণ গড়িয়া, চম্পাহাটি, বেগমপুর পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে বাজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফি বছর দীপাবলির অনেক আগেই হাড়ালের মোড় থেকে রাস্তার দু’পাশে বসে থাকতে দেখা যেতো বাজির দোকান। প্রতিবছর দুর্গাপুজার অনেক আগে থেকেই গমগম করে এই বাজির বাজার। হরেক রকম নতুন বাজি তৈরিও হয়ে যায় এর মধ্যেই। দোকানে দোকানে ভর্তি থাকে সেইসব বাজি। কিন্তু এখন সেই হাড়াল বাজি বাজারে বন্ধ বহু দোকান। তেমনভাবে দেখা নেই ক্রেতাদেরও।
এখন অবশ্য বৃষ্টি থেমে গিয়ে রোদের দেখা মিলেছে। কিন্তু দুদিন আগেও দোকানের সামনে জল জমেছিল, জানালেন মৃদুল দেবনাথ। বললেন, 'সবার কারখানা ডুবে গিয়েছিল। ১৯ মাস কাজ বন্ধ ছিল। কারও কাছে পুঁজি নেই। আমাদের অনেক ঋণ রয়েছে। এবছর বহু মানুষের ভ্যাকসিনেশন হয়েছে। তাই আশা রয়েছে বাজি বিক্রি হবে। কিন্তু আজ রবিবারের বাজার একদম ফাঁকা।'
মৃদুল আরও বলেন, 'আর একটা রবিবার রয়েছে। দেখা যাক কী হয়। এবছর আমাদের ট্রেড, দূষণ-সহ কোনও লাইসেন্সই নবীকরণ হয়নি।'
প্রতিবছর নতুন নতুন বাজি তৈরি করে তাক লাগানোর চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবছর নতুন করে আতসবাজি তৈরি করতে না পেরে হতাশা নেমে এসেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ফলে অনেকে এখন এই বাজির ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। কেউ বেছে নিয়েছেন রাজমিস্ত্রীর পেশা। কেউ’বা কাজে কলকাতায় পাড়ি দিচ্ছেন। রাজু সর্দার বললেন,'জমানো টাকা ভেঙে চলছে। সরকার কয়েক ঘন্টার জন্য বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিলে পারে।'
বাজি বিক্রেতা বিশ্বরূপ দাস বললেন, 'দূষণের জন্য বাজি বিক্রির অনুমতি নেই। তাই ক্রেতারাও ভয়ে আসছেন না। দূষণ তো গাড়িতেও হয়। তাহলে কী গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়? এবছর বাজি ফেলে দিতে হবে মনে হচ্ছে।'
তবে কিছু ক্রেতা আসছেন। নতুন বাজির খোঁজ নিচ্ছেন। দূরের ক্রেতাদের গাড়িতে বাজিবোঝাই করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিক্রি হচ্ছে বড় চকলেট বোম। তবে লুকিয়ে চুরিয়ে। এবছর মাত্র দুটি নতুন বাজি তৈরি করেছেন বিক্রেতারা। একটি ড্রোন, অন্যটি আইসক্রিম ফাউন্টেন। ড্রোন বাজি আকাশে ড্রোনের মতো উড়বে। আর আইসক্রিম ফাউন্টেন থেকে আইসক্রিমের গন্ধ বেরোবে। চম্পাহাটিতে বড় অগ্নিকাণ্ডের পর দমকলের একটি ইঞ্জিন এলাকাতেই সারা বছর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।