দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই-এর জেরার সামনে বসতে হবে রাজীব কুমারকে। এড়িয়ে যাওয়া যাওয়া চলবে না। তদন্ত চলাকালীন কলকাতার বাইরেও যেতে পারবেন না কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার। বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআইয়ের কাছে তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। রোজ হাজিরা দিতে হবে স্থানীয় থানায়।
রাজীব কুমারকে একাধিক শর্তে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট বলেছে, যত দূর তদন্তে সহযোগিতা করা যা, তত দূর রাজীব কুমারকে সহযোগিতা করতে হবে। রাজ্য সরকারের কোনও কাজে যোগ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজীবকে। এ দিন সিবিআই এবং রাজীব কুমার, দু'পক্ষকেই আদালত নির্দেশ দিয়েছে ১২ জুনের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে। তারপর ফের এই মামলার শুনানি হবে। এই সময় পর্যন্ত রাজীবকে গ্রেফতার করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে যখন সিবিআই ডাকবে তখনই তাঁকে হাজিরা দতে হবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে।
গত ১৭ মে রাজীব কুমারের উপর থেকে রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকে তিনি আগাম জামিনের জন্য চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হয়নি। গত রবিবার সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা হানা দেন রাজীবের ঠিকানায়। নটিস সাঁটিয়ে বলে আসেন, সোমবার দেখা করতে হবে। কিন্তু যাননি রাজীব। সি আইডি-র মারফৎ চিঠি দিয়ে রাজীব জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআইয়ের নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন রাজীবের আইনজীবী। সেই শুনানিতেই এ দিন অবকাশকালীন বেঞ্চে সিবিআই ফের একবার অভিযোগ করে, রাজীব কোনও ভাবেই তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। ডাকলে আসছেন না। পাল্টা রাজীবের আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলের নামে কোনও এফআইআর নেই। তবু তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সব শুনে অবকাশকালীন বেঞ্চ একাধিক শর্তে রাজীবকে সাময়িক রক্ষাকবচ দেয়।
ভোটের সময় এডিজি সিআইডি পদ থেকে রাজীব কুমারকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে অ্যাটাচ করে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আদর্শ আচরণ বিধি উঠতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনো পদে ফিরিয়ে আনেন তাঁকে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে রিলিজ না দেওয়ায় তাঁর দায়িত্ব নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি লিখে বলা হয় রাজীব কুমারকে রিলিজ দেওয়া হোক। এ দিনের হাইকোর্টের রায় সেই চিঠিকেও গুরুত্বহীন করে দিল। কারণ রাজ্যের কোনও কাজেই যোগ দিতে পারবেন না রাজীব কুমার।