দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের উপরে হামলা এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় সোমবার সকাল থেকে পথ অবরোধে শামিল হলেন বিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে যান চলাচলে সমস্যা হয় সকাল থেকেই। বিজেপি কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভের জেরে ব্যারাকপুরে কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়ে কার্যত পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যস্ত এই রাস্তায় ব্যাপক যানজট বেধে যায়।
সাংসদের উপরে হামলার প্রতিবাদে কল্যাণী এক্সপ্রেস ওয়ের শ্যামনগরের বাসুদেবপুর মোড়, আতপুর এবং কাঁকিনাড়ার পানপুর মোড় অবরোধ করে বিজেপি। সপ্তাহে প্রথম কাজের দিন আটকে পড়ে গাড়ি। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাসস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। তবে অবরোধ চলছে।
রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমার হালিশহরের কাছে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের গাড়িতে হামলা করে একদল দুষ্কৃতী। তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করে। এ ব্যাপারে শাসকদল তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, তিনি একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর দুষ্কৃতীরা হামলা করে। তৃণমূল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।
ব্যারাকপুরের নোনা চন্দনপুকুর এলাকাতেও বিজেপি কর্মীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি কর্মীদের মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং রবিবার অভিযোগ করেন, “তৃণমূল কংগ্রেস নেতা উত্তম দাসের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী সঞ্জয় যাদবের উপর আক্রমণ করেছে। সঞ্জয় যাদবের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।” এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিধায়ক। ব্যারাকপুরের তৃণমূল নেতা উত্তম দাস অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আক্রান্ত ওই নেতা আমার পরিচিত। মত্ত অবস্থায় মাতলামি করায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে মারধর করেছেন।”
ব্যারাকপুর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থামছে না। এখানে অনেক সাধারণ ঘটনাও দ্রুত রাজনৈতিক রং পেয়ে যাচ্ছে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বর্তমানে বিজেপি সাংসদ। তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এখানে সাধারণ অপরাধও এখন রাজনৈতিক রং পেয়ে যাচ্ছে। প্রতি ক্ষেত্রেই লড়াইটা হচ্ছে বিজেপি বনাম তৃণমূলের মধ্যে।