দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালেই শুরু হবে ভোট গণনা। জানা গিয়েছে, তার আগে তৃণমূলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করে বিজেপির হামলা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।
সূত্রের খবর, পার্থবাবুর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন সুজন। কিন্তু পার্থর সময় ছিল না। তাই ফোনেই সবটা জানান সুজন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জয়গায় সাম্প্রদায়িক হানাহানি হতে পারে বলে পার্থর কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুরের সিপিএম বিধায়ক। সেই সঙ্গে সুজন নাকি, এ-ও বলেছেন, যে বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা সিপিএমের পার্টি অফিস দখল করে নিতে পারে। তৃণমূলের বক্তব্য, সিপিএম এখন ভয় পাচ্ছে বিজেপি-কে। কারণ ওদের লোকেরাই বিজেপি হয়েছে। তাই এই কাঁদুনি। সুজনবাবু যদিও ফোনে এই ধরনের কথোপোথনের কথা অস্বীকার করেছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সুজনবাবু ফের ফোন করে বলেন, "এই ফোনের খবর সর্বৈব মিথ্যা। আমি পার্থবাবুকে বুধবার কোনও ফোন করিনি। তাঁর সঙ্গে দেখাও হয়নি। ফোন করেছিলাম মঙ্গলবার।" সিপিএম নেতা আরও বলেন, "ভাটপাড়ায় যে অশান্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা দেখা করতে যাওয়ার সময় আমি পাঁচ জনকে ফোন করি। এক, রাজ্যের মুখ্যসচিব, দুই সুরজিৎ করপুরকায়স্থ, তিন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার, চার উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা শাসক এবং পাঁচ পার্থবাবু। তাঁকে বলি, ভাটপাড়ায় যা হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না। আপনারা এখুনি ব্যবস্থা নিন।" তাঁর কথায়, "বিজেপি আমাদের পার্টি অফিস দখল করবে আর তা নিয়ে সরকারের কাছে কাঁদুনি গাইব, সে রকম অবস্থা হয়নি।"
এমনিতে বাম ভোট রামের দিকে চলে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে ঠেকাতে বহু জায়গায় সিপিএম-বিজেপি আঁতাঁতও হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, তলার স্তরে যেহেতু বাম কর্মীরাই বিজেপির শক্তি বাড়িয়েছে, তাই সিপিএমের আশঙ্কা তাদের পার্টি অফিসগুলো ওই কর্মীরাই দখল করে মার্কস লেনিনের ছবি খুলে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের ছবি লাগিয়ে দিতে পারে।