দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় আসানসোল মহকুমায় আংশিক লকডাউন ঘোষণা করল মহকুমা প্রশাসন। আজ সোমবার সকাল থেকে বাজার খোলা রাখার সময় বেঁধে দিয়েছে তারা। আসানসোলের পাশাপাশি দুর্গাপুরেও একই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই শহরে আবার সোমবার থেকে বন্ধ রাখা হচ্ছে মিনিবাস পরিষেবাও।
আসানসোলের মহকুমাশাসক দেবজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বাজার খোলা রাখা সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন রবিবার। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে সবজি বাজার ও মল সকাল আটটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে ওষুধের দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান এবং জরুরি পরিষেবা।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এগুলি খোলা রাখা যাবে তবে বসে খাওয়াদাওয়া করা যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধুমাত্র হোম ডেলিভারি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মহকুমা প্রশাসনের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার জন্য মহকুমায় করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই কারণে প্রশাসন বাধ্য হচ্ছে দোকান ও বাজার খোলা রাখার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আসানসোলের শহর ও গ্রামাঞ্চলে এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। সমস্ত বাজার, বিজনেস অ্যাসোসিয়েট শপিং মল কর্তৃপক্ষ – প্রভৃতিকে এই নির্দেশিকার কথা জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
দুর্গাপুর মহকুমাতেও একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে অর্থাৎ এখানেও সকাল আটটা থেকে দুপুর একটার পরে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য সব কিছু বন্ধ থাকবে। আজ সোমবার থেকে দুর্গাপুর শহরে মিনিবাস পরিষেবাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় হঠাৎ বেড়ে গেছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়েছে ৫১। এ পর্যন্ত জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৭২ জন। করোনায় মারা গেছেন সাত জন। বর্তমানে জেলায় কোভিড পজিটিভের সংখ্যা ১৭৭। জেলায় আচমকা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। তবে শুধু এই জেলা নয় রাজ্যের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিটি জেলাতেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে আরও বেশি করে টেস্ট করা শুরু হচ্ছে। তাই আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়বে। এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।