
শেষ আপডেট: 22 May 2020 06:29
কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ কার্যত বিপর্যস্ত। বহু জায়গায় রাস্তাজুড়ে গাছ পড়ে রয়েছে। কাশীপুর, বেলগাছিয়া, পাইকপাড়া, হাতিবাগান থেকে যাদবপুর, গলফগ্রিন, রাসবিহারী, চেতলা, বাঁশদ্রোনী-- সর্বত্রই ছবিটা এক। কলকাতা করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজ্যের পুরমন্ত্রী ববি হাকিম বলেছেন, অভাবনীয় বিপর্যয় হয়েছে কলকাতায়। পুরসভার কর্মীরা প্রাণপাত পরিশ্রম করছেন। যত দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করা যায় তার চেষ্টা চলছে।
একই অবস্থা হাওড়াতেও। হাওড়া শহরে বিস্তীর্ন এলাকায় পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ। দুর্ভোগে পুর এলাকার বাসিন্দারা। একে বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। তার উপর জল না পেয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে। হাওড়া কর্পোরেশন সূত্রে খবর, প্রবল বৃষ্টিতে জল মগ্ন হয়ে গিয়েছে পদ্মপুকুর জল প্রকল্প। জল সরবরাহের বিভিন্ন মেশিন জলে ডুবে গিয়েছে। জমা জল সরিয়ে সেগুলো মেরামতির কাজ চলছে। আগামীকাল, শনিবার সন্ধের আগে পানীয় জল পাওয়া যাবে না। নাগরিকদের কিছুটা সুরাহা দিতে জলের গাড়ি পাঠানোর বন্দোবস্ত হচ্ছে বলে পুর নিগমের তরফে বলা হয়েছে।
হুগলিতেও উত্তরপাড়া, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি, ভদ্রেশ্বর, চাঁপদানি, চন্দননগর, চুঁচুড়া, ব্যাণ্ডেলের মতো শহর এলাকাতো বটেই সিঙ্গুর, আরামবাগ, ধনেখালি, বলাগড়, খানাকুলের মতো গ্রামীণ এলাকাতেও একই পরিস্থিতি। অধিকাংশ জায়গায় পড়ে যাওয়া গাছ সরানোর লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎবিহীন বিস্তীর্ণ এলাকা।
চন্দননগর থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত অন্তত ৩০টির বেশি জায়গায় গাছ পড়ে রয়েছে। চাঁপদানি দমকল কেন্দ্রের ঠিক সামনে বুধবার রাত থেকে গাছ পড়ে রয়েছে। তা সরানোর লোক নেই। জিটি রোডে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ট্রাক। তাতে বোঝাই করা সবজি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। ট্রাক চালকদের আশঙ্কা, এতে সবজিতে পচন ধরতে পারে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বারাসত, দক্ষিণের মহেশতলা থেকে সোনারপুর, বারুইপুর-- ছবিটা একই। সব মিলিয়ে উমফান পরবর্তী পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এই অবস্থায় ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে রোগীরা। ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগীদের ভয়াবহ সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।