দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশান্তি যেন থামছেই না ভাটপাড়ায়। মঙ্গবার সন্ধ্যায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাঁকিনাড়া। এ দিন সন্ধ্যায় ফের বোমাবাজিতে আহত হয়েছেন একজন। যেসব এলাকা এই কদিনের গণ্ডগোলেও শান্ত ছিল, সেখানেও নতুন করে শুরু হয়েছে অশান্তি। জানা গিয়েছে, গোটা ভাটপাড়ায় মোতায়েন হয়েছে প্রচুর পরিমাণ সিআরপিএফ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী অর্জুন সিংয়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছেন সিআরপিএফ জওয়ানরা।
ভাটপাড়ার অশান্তির আঁচ এসে পৌঁছেছে গঙ্গার এ পাড়েও। প্রতিদিন তেলেনিপাড়া, অ্যাঙ্গাস, ডালহৌসি, শ্যামনগর-সহ একাধিক জুটমিলে প্রচুর শ্রমিক কাজ করতে আসেন ভাটপাড়া থেকে। এ দিন সন্ধ্যায় নতুন করে গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় আতঙ্কে তাঁদের অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারেননি।
গত রবিবার ভাটপাড়া বিধানসভার উপ-নির্বাচনের সময় থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল কাঁকিনাড়া ও অন্যান্য এলাকা। মুড়িমুড়কির মতো বোম পড়েছিল দিনেদুপুরে। অভিযোগ ছিল কয়েক রাউন্ড গুলিও নাকি চলছে। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নামে র্যাফ এবং সিআরপিএফ। জখম হন তিন জওয়ান। এরপর সোমবার সকাল থেকেই কাঁকিনাড়া রেল স্টেশনে অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অফিস টাইমে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর মেন লাইনের পরিষেবা। দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। এ দিনই কাঁকিনাড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং
তবে সোমবার পরিস্থিতি খানিকটা সামাল দেওয়া গেলেও, অশান্তি চরমে পৌঁছয় মঙ্গলবার সকালে। এ দিন যাত্রী বোঝাই লোকাল ট্রেন লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা পরপর বোমা ছুঁড়তে থাকে। প্রায় দশ-বারোটা বোমা ছোঁড়ে তারা। বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন যাত্রীরা। সকাল আটটা থেকে কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ২৯ নম্বর রেলগেটে শুরু হয় রেল অবরোধ। দাঁড়িয়ে পড়ে ডাউন নৈহাটি লোকাল। তার ঠিক পিছনেই এসে দাঁড়ায় ডাউন শান্তিপুর লোকাল। আচমকা কিছু দুষ্কৃতী ট্রেনগুলি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা।
ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকায় নেমে ছুটে পালানো সম্ভব হয়নি যাত্রীদের। তড়িঘড়ি ট্রেনের দরজা-জানলা বন্ধ করে বাঁচার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ট্রেনযাত্রী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হন। হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়েও আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বেলা সাড়ে বারোটারও পরে অবরোধ ওঠে। সাময়িক ভাবে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
ভাটপাড়া পুরসভার সাত থেকে সতেরো নম্বর ওয়ার্ডে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। তবুও তা ভেঙেই রাস্তায় রাস্তায় চলছে জমায়েত। গত কয়েকদিনের টানা অশান্তিতে বিপর্যস্ত ভাটপাড়ার জনজীবন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফের বোমাবাজি শুরু হতেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।