দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার রাজনীতিতে তিনি তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে একেবারেই আপসহীন। সংঘাতটা শুধু রাজনৈতিক স্তরে আর সীমাবদ্ধ নেই। লোকসভা ভোটের প্রচারে বহরমপুরে দাঁড়িয়ে তাঁকে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাই প্রথম মুহূর্ত থেকেই কৌতূহল ছিল। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তৃণমূলের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবেন অধীর চৌধুরী?
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রশ্নের জবাবে অধীরবাবু স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন। বললেন, “আমাকে তৃণমূলের এক জন সাংসদ এই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি বলেছি, অ্যাক্ট লোকালি-থিঙ্ক ন্যাশনালি। বাংলায় যেমন রাজনীতি করছি তেমনই করব। কিন্তু দেশের স্বার্থে সংসদে মিলে মিশে কাজ করতে হবে”।
এ বার লোকসভা ভোটে মাত্র ৫২ টি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। তার ফলে এ বারও প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়নি। তা না হলেও লোকসভায় সব থেকে বড় বিরোধী দল কংগ্রেসই। ফলে বাকি বিরোধী দলগুলি কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয় করে চলবে, সেটাই প্রত্যাশিত।
লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত স্তরে সুদীপবাবুর সঙ্গে অধীরের সম্পর্ক ভালই। কিন্তু তৃণমূল সংসদে কী অবস্থান নেবে তা সুদীপবাবুর উপরে নির্ভর করে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্থির করে দেন। ফলে অধীর এ কথা বললেও, তাঁর নেতৃত্বে লোকসভায় কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয়ের ব্যাপারে দলকে কতটা অনুমতি দেন মমতা সেও দেখার। যেমন, চোদ্দর লোকসভা ভোটের পর দেখা গিয়েছিল সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে কক্ষ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাপারে দূরত্ব রাখছিল তৃণমূল। বরং তৃণমূল এমন অবস্থান নিয়ে চলছিল যাতে প্রকারান্তরে সংসদে বিজেপি-র সুবিধাই হয়।
অধীরবাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল বিরোধিতায় আগের মতই আপসহীন থাকবেন বহরমপুরের সাংসদ। কিন্তু সংসদের রাজনীতি একেবারে অন্যরকম। কংগ্রেসের দলনেতা হিসাবে সংসদে দলের রাজনৈতিক অবস্থান মেনেই চলতে হবে তাঁকে। আর রাজনৈতিক অবস্থানের মূল সূত্র হল, জাতীয় স্তরে বিজেপি-কে রুখে দিতে হবে। সেই পরিস্থিতিতে মোদী বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে অধীরবাবুকেও সমন্বয় করেই চলতে হবে।