দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর এক বছরও কাটেনি তাঁর বড় ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় সোমবার কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিসি বলেন অভিজিৎ। কংগ্রেসে থাকাকালীন তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক রেখে চলতেন তিনি। অনেকের মতে, কংগ্রেসের রাজনীতিতে কোনও ভবিষ্যৎ না দেখেই সহজ পথ বেছে নিলেন অভিজিৎ।
প্রণব পুত্রের এ হেন তৃণমূল-যোগ নিয়ে মুখোপাধ্যায় পরিবারে ঘরোয়া প্রতিক্রিয়া কী, তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজীব গান্ধীর জমানায় প্রণববাবু সাময়িক ভাবে এক বার কংগ্রেস ছাড়লেও বরাবর এই সাবেক দলের প্রতি ছিলেন নিষ্ঠাবান। কংগ্রেসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক বইও লিখেছেন তিনি। তাঁর ছেলে কংগ্রেস ছাড়ায় চব্বিশ আকবর রোডেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
অভিজিৎ আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দ্য ওয়ালের তরফে ফোন করা হয়েছিল প্রণব-কন্যা শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়কে। শর্মিষ্ঠা কংগ্রেসের মুখপাত্র। কিন্তু দাদার এই দলবদল নিয়ে কোনও উৎসাহ বা উৎকন্ঠা প্রকাশ করেননি শর্মিষ্ঠা। বরং ঠাণ্ডা গলায় বলেন, “এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে আমার কোনও ধারণাই নেই। উনি কী করবেন না করবেন তা নিয়ে আমার কোনও দায়ও নেই। তাই কোনও প্রতিক্রিয়াও নেই।”
বস্তুত প্রণববাবু চোখ বোজার পরই তাঁর বড় ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বিবাদ প্রকাশ্যে এসে পড়ে। প্রণববাবু বেঁচে থাকতে একটি সর্বভারতীয় প্রকাশনা সংস্থাকে তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশের জন্য দুই পর্বের পাণ্ডুলিপি দিয়েছিলেন। সেই দু'টি বই প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মেয়াদ নিয়ে তৃতীয় বইটি এবার প্রকাশিত হওয়ার আগে তুমুল ঝগড়া বাধে ভাই-বোনে। ধারাবাহিক টুইট করে অভিজিৎ দাবি করেছিলেন, বইটি প্রকাশের আগে তাঁকে একবার দেখাতে হবে। তাঁর লিখিত অনুমতি ছাড়া বই ছাপা যাবে না। আবার পাল্টা টুইট করে শর্মিষ্ঠা বলেছিলেন, আমার দাদা সস্তার প্রচার পাওয়ার জন্য এ সব করছেন। কিন্তু এ ভাবে বই প্রকাশ কেউ আটকাতে পারবে না। বাবার প্রতি অবিচার হতে দেব না।
এমনিতে মুখোপাধ্যায় পরিবারে দাদা ও বোনের মধ্যে যে বনিবনা একেবারেই নেই, তা কাছের লোকজনের অনেকেই ভাল ভাবে জানেন। প্রণব ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের এক নেতা এদিন বলেন, বাস্তব হল বাবার ছত্রছায়ায় থাকার দৌলতেই অভিজিৎ প্রথমে নলহাটির বিধায়ক ও পরে জঙ্গিপুরের সাংসদ হয়েছিলেন। উনিশের লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘু ভোট অনেকাংশে তৃণমূলের দিকে চলে যাওয়ায় জঙ্গিপুরে পরাস্ত হন অভিজিৎ। প্রণববাবুর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক ভাবে আরও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন তিনি। তা ছাড়া জেলার অন্যতম নেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর সঙ্গেও তাঁর সে রকম বনিবনা নেই। ফলে এটাই ভবিতব্যই ছিল। তাঁর কথায়, প্রণববাবুর ছেলে কংগ্রেস ছাড়লেন, এটাই একটা খারাপ লাগার বিষয়। তা বাদ দিয়ে অভিজিৎ দল ছাড়ায় কংগ্রেসের নতুন করে কোনও ক্ষতি হওয়ার নেই।