ক্যানিংয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানদের বেঁধে রাখে পরিবার, মমতার কাছে সাহায্যের আর্তি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই ছেলেই মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘরে সামলে রাখা যায় না। তাই অগত্যা তাঁদের বেঁধে রাখেন বাবা মা।
ক্যানিং থানা এলাকার ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ রোদখালি গ্রামের বাসিন্দা নিমাই সরদার। পেশায় তিনি দিনমজুর। কোনওরকমে দিন আনি
শেষ আপডেট: 9 September 2021 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই ছেলেই মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘরে সামলে রাখা যায় না। তাই অগত্যা তাঁদের বেঁধে রাখেন বাবা মা।
ক্যানিং থানা এলাকার ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ রোদখালি গ্রামের বাসিন্দা নিমাই সরদার। পেশায় তিনি দিনমজুর। কোনওরকমে দিন আনি দিন খাই করেই সংসার চলে। এই দারিদ্র্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো তাঁর এই দুই ছেলে। দুজনেই চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে অসুস্থ, মানসিক ভারসাম্যহীন। সম্প্রতি আবার কিডনির অসুখ ধরা পড়েছে নিমাইয়েরও। সবমিলিয়ে অসহায়তায় দিশাহারা সরদার পরিবার। সাহায্যের জন্য তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
পুজো কমিটিগুলোকে এবারও ৫০ হাজার, বাড়ন্ত কোষাগার থেকে খয়রাতি নবান্নের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহায় হলেই এই অন্ধকার পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন, এমনটাই আশা ক্যানিংয়ের দিনমজুর পরিবারের। সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা পেতে চান তাঁরা। কে বলতে পারে! ঠিক মতো চিকিৎসা হলেই হয়তো আবার আর পাঁচটা বাচ্চার সঙ্গেই হেসে খেলে বেড়ে উঠতে পারবে সরদারদের দুই ছেলে। তাঁদের আরও এক মেয়েও রয়েছে। সবে তিন বছর বয়স তাঁর। এখনও সুস্থই আছে একরত্তি। সরকারি সাহায্যের জন্য হাত পেতেছেন নিমাই।
জন্মের পর অবশ্য ভালই ছিল ছেলেরা। ১৮ বছর আগে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন উত্তরা সরদার। পাঁচ বছর পর্যন্ত বাকিদের সঙ্গে পড়াশোনা শিখত ছোট বিশ্বজিৎ ওরফে বিজয়। কিন্তু হঠাৎই ছেলের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখেন নিমাই আর উত্তরা। বন্ধ হয় ছেলের মুখের বুলি। টুকটাক বাড়ি থেকে বেরিয়ে বেশ কয়েকবার নিখোঁজও হয়েছে বিজয়। রাস্তায় বেরিয়ে গিয়ে এর ওর হাত ধরে টান দিয়েছে। অগত্যা বাড়িতেই খুঁটির সঙ্গে ছেলেকে বেঁধে রাখতেন নিমাই সরদার। ছোট ছেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।
https://youtu.be/6ifr2ZTgaNk
বিজয়কে নিয়েই হিমশিম খেতেন মা উত্তরা। তার মাঝেই আরও এক সন্তান তাঁর গর্ভে আসে। তাকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে থাকেন সরদাররা। কিন্তু বিধি বাম। ছোট ছেলে অজয়ও ছ'বছর বয়স থেকে বিজয়ের মতোই গোলমেলে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তারও মানসিক ভারসাম্য টলতে শুরু করে।
এর মাঝে দিন কয়েক আগে আবার রোগগ্রস্ত হন নিমাইও। তাঁর একটি কিডনি বিকল হয়ে যায়। দুই সন্তান আর অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার চালাতে কার্যত নাকানিচোবানি খাচ্ছেন উত্তরা সরদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর কাতর আবেদন, পরিবারটাকে বাঁচান। সাহায্য না পেলে সব শেষ হয়ে যাবে।
সরদারদের প্রতিবেশীরাও তাদের অবস্থা দেখে কাতর। অভাব যাদের নিত্যসঙ্গী, কীভাবে তারা চিকিৎসার ব্যয়ভার বইবে, ভেবে পাচ্ছেন না কেউ। সকলেই চান সমাজের আর পাঁচজনের সঙ্গে মিলেমিশে স্বাভাবিক সুস্থ জীবন কাটাক বিজয়, অজয়। সুস্থ হয়ে উঠুন তাদের বাবা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'