দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে বহু ট্রেন বাতিল হল পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব রেলের শাখায়। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
উত্তর-পূর্ব ভারতে অশান্তির জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের শতাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল হয়েছে, ৫০টির কাছাকাছি দূরপাল্লার ট্রেন হয় বাতিল হয়েছে অথবা যাত্রাপথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই অবস্থা দক্ষিণ-পূর্ব রেলেরও।
এদিন মাঝপথেই আচমকা বাতিল হয়ে যায় তিস্তা-তোর্ষা এক্সপ্রেস। তার জেরে যাত্রীবিক্ষোভ দেখা যায় জলপাইগুড়ির রানিনগর স্টেশনে।
এদিন বাতিল হওয়া ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে হাওড়া-দিঘা এসি এক্সপ্রেস, হাওড়া-পুণে দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-তিরুপতি হামসফর এক্সপ্রেস, হাওড়া-সিএসএমটি গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, হাওড়া-এর্নাকুলাম অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস, হাওড়া-দিঘা কাণ্ডারী এক্সপ্রেস, করমণ্ডল এক্সপ্রেস, হাওড়া-যশোবন্তপুর দুরন্ত এক্সপ্রেস, হাওড়া-হায়দরাবাদ ইস্টকোস্ট এক্সপ্রেস প্রভৃতি।
পুরী-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসকে খড়্গপুর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাওড়া-পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস ছাড়বে খড়্গপুর থেকে। ভুবনেশ্বর-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস মেচেদা অবধি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাটানগর হাওড়া ইস্পাত এক্সপ্রেস চালানো হবে মেচেদা পর্যন্ত, হাওড়ার পরিবর্তে তা ছাড়বেও মেচেদা থেকেই। রাঁচি-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস চলবে রাঁচি ও টাটানগরের মধ্যে।
বাতিল করা হয়েছে শালিমার ও কুরলার মধ্যে চলাচলকারী এক্সপ্রেস। ভোজুদি-শালিমার আরণ্যক এক্সপ্রেস চালানো হয়েছে আদ্রা পর্যন্ত। বাতিল করা হয় পুরুলিয়া হাওড়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস। আদ্রা-শালিমার রাজ্যরানি এক্সপ্রেস, চালানো হয়েছে শালবনি পর্যন্ত। বাতিল হয়েছে সাঁতরাগাছি-পুরী স্পেশাল, হাওড়া-পুরী শ্রীজগন্নাথ এক্সপ্রেস, হাওড়া সম্বলপুর এক্সপ্রেস এবং বহু লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
পূর্বরেল জানিয়েছে, আসানসোল ডিভিশনের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনে বারাসত-হাসনাবাদ সেকশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে আজিমগঞ্জ ও নিউ ফারাক্কা সেকশনে বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
বাতিল হয়েছে হাওড়া ডিব্রুগড় কামরূপ এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড় হাওড়া কামরূপ এক্সপ্রেস (১৬ তারিখ পর্যন্ত), ডিব্রুগড় কন্যাকুমারী বিবেক এক্সপ্রেস (১৯ তারিখ পর্যন্ত), রাজেন্দ্রনগর নিউ তিনসুকিয়া এক্সপ্রেস, আগরতলা- শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত), শিলচর-শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত), শিয়ালদহ-শিলচর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, ব্যাঙ্গালোর-আগরতলা হামসফর এক্সপ্রেস। এ ছাড়াও বাতিল হয়েছে গুয়াহাটি, ডিব্রুগড়, শিলচর ও আগরতলা-কেন্দ্রিক বহু ট্রেন। যাত্রাপথ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ডিব্রুগড়-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, চণ্ডীগড়-ডিব্রুগড় এক্সপ্রেসের।
আগামী কালও বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত আগাম জানানো হলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আরও কয়েকটি ট্রেন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রেন বাতিল হওয়ায় চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।