দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কয়েকদিন আগে ভুট্টা খেতে দাপিয়ে বেড়িয়ে ছিল দাঁতালের দল। এবার ছিল জঙ্গলের ফেরার পালা। কিন্তু বর্ষা নেমে গিয়েছে। তাই স্রোতস্বিনী হয়ে উঠেছে তিস্তা ক্যানেল। শাবকদের নিয়ে ক্যানেল পেরিয়ে তিস্তাপারের বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে ফিরতে পারছে না বুনো হাতির দল। তাই ছানা-পোনা নিয়ে ক্যানালের এপারের জঙ্গলেই থেকে যেতে হয়েছে ৫০টি বুনো হাতির একটি দলকে।ফলত ওই এলাকায় গ্রামের মানুষের বিপদ থেকেই গেল।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গল সংলগ্ন তিস্তাপারের বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল বুনো হাতির দল। এরপর দাঁতালদের দলটি গত ২ তারিখে চলে আসে বৈকুণ্ঠপুরের গৌরী কোন বিট এলাকায়। খিদের তাড়নায় একের পর এক তিস্তা পারের ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেত সাবার করতে থাকে।তাতে গ্রামবাসীদের প্রচুর আর্থিক লোকসান হয়েছে।
এরপর গত ১০ তারিখ হাতির দলকে তাড়িয়ে বেলাকোবার জঙ্গলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেখানে খাবার না পেয়ে ফের দুদিন পর দলটি খাবারের লোভে হাজির হয় ভুট্টা ক্ষেতে।
বৃহস্পতিবার সকালে শাবকদের নিয়ে প্রায় ৫০ টি হাতির দল নাথুয়ার চড় পার হয়ে চলে আসে বোদাগঞ্জের ভ্রামরি দেবী মন্দির সংলগ্ন জঙ্গলে। খবর পেয়ে এলাকায় ভিড় জমাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ছুটে আসতে হয় বৈকুণ্ঠপুর এলিফ্যান্ট স্কোয়াডকে। তারা বোম-পটকা ফাটিয়ে হাতিগুলিকে লোকালয় থেকে তাড়াতে থাকে। এই মুহূর্তের মধ্যে হাতির দলটি বাতাসিভিটার জঙ্গলে চলে যায়।এখন সেখানে আপাতত ঠাঁই নিয়েছে দাঁতালের দলটি।তাই আসে-পাশের গ্রামের বাসিন্দাদের ভয় খাবারের সন্ধানে ফের গ্রামে হামলা চালাতে পারে হাতির দলটি।
বনদফতর সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে তিস্তা ক্যানেলে প্রচুর জল রয়েছে। তাই হাতির দল সেই জলে বাচ্চাদের নামিয়ে ক্যানেল পার করে বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে ফিরতে পারছে না। তাই কবে দলটি জঙ্গলে ফিরে যাবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা যাবে না।