
শেষ আপডেট: 17 November 2022 11:32
বেআইনি কয়লা পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে ইডি ও সিবিআই। অন্যদিকে, নদীর বুক থেকে বেআইনিভাবে বালি, পাথর তোলার জেরে অশান্তির অভিযোগ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে, বিপুল টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে রাজ্য সরকার।
এই পরিস্থিতিতে নতুন খনন নীতি চালু করতে চলেছে রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং শিল্প বাণিজ্য দফতর। তারা ঠিক করেছে, সরকারি ও বেসরকারি জমিতে খননের লাইসেন্স ইস্যু করা হবে ( New policy to grant mining rights)।
নবান্ন (Nabanna) সূত্রের খবর, কোম্পানি তো বটেই, ব্যক্তি বিশেষকেও এই অনুমতি দেওয়া হবে। গতকাল ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী সরকারের নয়া নীতি সম্পর্কে জেলা শাসকদের অবহিত করেছেন।

কিছুদিন আগে নীতির খসড়ায় অনুমোদন দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভা। নয়া নীতি কার্যকর হলে রাজ্যের আর্থিক সংকট অনেকটা লাঘব হতে পারে, আশা নবান্নের কর্তাদের। একই সঙ্গে খননের (mining) বেআইনি কারবারে লাগাম টানা সম্ভব হবে।
খনিজ সম্পদ ও খনন আইন অনুযায়ী কারও জমিতে খনিজ সামগ্রী থাকলেও সরকারের অনুমতি ছাড়া খনন করা যায় না। খননের অনুমতি বা লাইসেন্স পেলে রয়ালটি ও সেসের বিনিময়ে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা যায়।
বর্তমানে পাথর ও কয়লা উত্তলনকে ঘিরে যে খনিগুলির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সে গুলির বেশিরভাগই বেসরকারি জমিতে অবস্থিত। যেমন বীরভূমের ২৩০টি পাথর খাদানের মধ্যে প্রায় দু'শোটি বেআইনিভাবে চলছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ খননের লাইসেন্স নেই।
ভূমি দফতরের অনুমতি সাপেক্ষে খননের লাইসেন্স দিয়ে থাকে শিল্প দফতরের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেলস ট্রেডিং কর্পোরেশন।
নয়া সরকারি নীতিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তি বিশেষ যদি মনে করে বা তথ্য থাকে যে তাঁর জমির নিচে খনিজ সম্পদ আছে তাহলে তিনি সেই জমি নিজে খননের লাইসেন্স পেতে পারেন। তিনি কোনও কোম্পানিকে সেই জমি লিজও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকার লিজ নেওয়া সংস্থাকে খননের লাইসেন্স দেবে।
এরফলে সরকার কীভাবে উপকৃত হতে পারে? সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, খনিজ সম্পদের জন্য রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট হারে রয়ালটি ও সেস পেয়ে থাকে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের যে খনিগুলি আছে, সেগুলির জন্য রাজ্য এই খাতে রাজস্ব পেয়ে থাকে।
কিন্তু এই খাতে এখন আয় হয় সামান্য অর্থ। তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত প্রাপ্য মেটায় না।
অন্যদিকে, বেআইনি খননের জেরে যে পরিমাণ টাকার ব্যবসা হয় তা আইনি পথে চললে রয়ালটি ও সেস বাবদ রাজ্যের কোষাগারে আসতে পারে প্রায় হাজার কোটি টাকা।
নয়া ব্যবস্থায় লাইসেন্স পাওয়ার পথ সহজ ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, শুধু এই কাজের জন্য একটি পোর্টাল চালু করবে রাজ্য। সেখানে জমির ব্যক্তি/কোম্পানি/সংগঠন খননের অধিকার চেয়ে জমির বিস্তারিত তথ্য সহ দরখাস্ত করতে পারবেন।
জমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করবে জেলা ভূমি ও ভূমি দফতর। তারা সবুজ সংকেত দিলে মিনারেল ট্রেডিং কর্পোরেশন রাজ্য ভূমি ও ভূমি দফতরের অনুমতি সাপেক্ষে খননের লাইসেন্স ইস্যু করার পথে অগ্রসর হবে। সে জন্য তাদের কাছে আলাদা করে দরখাস্ত করতে হবে। দরখাস্ত বাবদ দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা।
এছাড়া ইচ্ছাপত্র বা লেটার অফ ইনটেন্ট চেয়ে দরখাস্তের সঙ্গে রয়ালটির এক হাজার গুন অর্থ এককালীন জমা করতে হবে ট্রেডিং কর্পোরেশনের কাছে। চলতি মাসেই নয়া নীতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে।
সম্পত্তির লোভে নাতির হাতে খুন দাদু! দক্ষিণ দিনাজপুরের বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য