
শেষ আপডেট: 26 June 2023 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েতের মনোনয়নপর্বে সবচেয়ে চোখ টেনেছে ভাঙড়ের অশান্তি। মনোনয়নের শেষ দিন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনটি লাশ পড়েছিল বিডিও অফিসে চত্বরে। অনেকে বলেন, ভাঙড়ে যতটা তৃণমূল বনাম আইএসএফ সংঘাত, ঠিক ততটাই শওকত মোল্লার সঙ্গে নওসাদ সিদ্দকির। শওকত ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক হলেও তিনি তৃণমূলের তররফে ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক। আর নওসাদ সেখানকার বিধায়ক। সেই যুযুধান দু’জনকেই এদিন একসঙ্গে একফ্রেমে পাওয়া গেল বিধানসভার বারন্দায়। সাংবাদিকরা ছেঁকে ধরতেই হাসতে হাসতে বাকযুদ্ধ চালিয়ে গেলেন দুই নেতা।
এদিন সাংবাদিকরা নওসাদকে প্রশ্ন করেন, ভাঙড়ে কি শান্তিপূর্ণ ভোট হবে? জবাবে একমুখ হাসি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শওকতকে দেখিয়ে আইএসএফ বিধায়ক বলেন, ‘বড় দাদা আছেন। আমি আশা করব উনি আমাকে বড় দাদা হিসাবে গাইড করবেন?’
একই প্রশ্ন শওকতের দিকে ছুড়ে দিলেন তিনি বলেন, ‘আমি নওসাদভাইকে বলব, ভাঙড়ে বেশি গন্ডগোল না করতে।’ নওসাদ পাল্টা জবাবে ঠোঁটের কোণে সেই হাসি নিয়েই বলেন, ‘বড় দাদা সবটা জানেন, কোথা থেকে লোক নিয়ে আসছেন, কারা গন্ডগোল করছেন, সব দাদা জানেন।’ সেইসঙ্গে নওসাদ এও বলেন, ‘আমার বাইরে থেকে লোক আনার প্রয়োজন হয় না। ভাঙড়ের মানুষই যথেষ্ট।’
নওসাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া থেকে শুরু করে একুশের ভোটের আগে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে পীরজাদার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস করে তৃণমূল দাবি করেছিল, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়কের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের নিবিড় যোগ রয়েছে। এদিন সে নিয়ে সরাসরি শওকত মোল্লাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘নওশাদ কি বিজেপির লোক?’ জবাবে মুচকি হেসে শওকত বলেন, ‘এ নিয়ে এখানে আমি কিছু বলব না।’ রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এদিন দুই নেতাই শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বলেছেন। তাও আবার এক ফ্রেমে, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। এখন দেখার ভাঙড়ের ভোট ঠিক কেমন হয়। তবে এদিন যে ফ্রেম দেখা গেল তা ভাঙড়ের শান্তির জন্য ভাল দৃষ্টান্ত বলেই মত অনেকের।
ভাঙড়ে ফের মনোনয়নের সুযোগ দিতে হবে, আইএসএফের মামলায় কমিশনকে নির্দেশ হাইকোর্টের