
শেষ আপডেট: 14 June 2023 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: কয়েকদিন আগেই ফুরফুরায় গিয়ে মাজারে প্রার্থনা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন ফুরফুরা ছেয়ে গিয়েছিল নওসাদ সিদ্দিকির ছবিতে। ছবিতে লেখা ‘নোয়াতে না পারা সেই মাথা, কিনতে না পারা সেই মেরুদণ্ড’। ধর্মতলায় গ্রেফতারের পর জেল খেটে বেরিয়ে তাঁর ফুরফুরা ফেরার সেই শোভাযাত্রাও মনে রেখেছেন রাজ্যের মানুষ। ভাঙড়ের বিধায়ক সেই নওসাদ বরাবরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোটের বার্তা দেন। পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে ঘোষিত জোট হয়নি। তবে ফুরফুরায় তৃণমূলকে হারাতে হাতে হাত রেখেই চলছে আইএসএফ-বাম।
নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি করে মনোনয়নও জমা দিয়েছে দুই দল। ফুরফুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৯ টি আসনের মধ্যে বামেরা ১৫ টিতে এবং আইএসএফ ১৪ টিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। জাঙ্গিপাড়া ব্লকে ফুরফুরা ছাড়া আরও দুটি পঞ্চায়েত মুণ্ডুলিকা এবং কোতলপুরেও জোটবদ্ধ হয়েছে আইএসএফ এবং বাম। সিপিএম নেতা পবিত্র সিংহরায় বলেন, “দলের উপরতলার নির্দেশ, তৃণমূলকে হারাতে তৃণমূল বিরোধী শক্তির সঙ্গে জোট করো। সেটাই করা হয়েছে ফুরফুরায়।”
ফুরফুরার হুজুরদের সঙ্গে পবিত্রবাবুর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। হুগলির দুই প্রবাদপ্রতিম প্রয়াত সিপিএম নেতা সুদর্শন রায়চৌধুরী ও সুনীল সরকারের দূত হিসাবেই পবিত্র ফুরফুরার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন। এখনও তেমনটাই বজায় রয়েছে।
১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একটানা বামেদের দখলে ছিল এই পঞ্চায়েত। ২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদলের পর ২০১৩ পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে ফুরফুরা পঞ্চায়েতে ক্ষমতা ধরে রাখে বামেরা। তবে ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের পর পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল প্রার্থীরা জয়লাভ করে। এবারের বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোটের পর তৃণমূল এই পঞ্চায়েতে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারাই। হাজার হোক নওসাদ সিদ্দিকি যে এই ফুরফুরা শরীফেরই পীরজাদা।
যদিও বাম এবং আইএসএফের এই জোটকে পাত্তা দিতে চাইছে না শাসকদল। তৃণমূলের হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেন, “বামেরা স্বার্থের জোট করে। যা মানুষ ভালভাবে নেয় না। ফুরফুরার মানুষ, জাঙ্গিপাড়ার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছে। আগেও জিতিয়েছে এবারও জেতাবে।”
বাংলার অভিভাবিকাকে জানাতে এসেছিলাম, নবান্নে থেকে বেরিয়ে বললেন নওসাদ