
শেষ আপডেট: 26 July 2023 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদার বামনগোলায় ২ মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (National Human Rights Commission)। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আবার মণিপুরে ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলা হিংসার ঘটনাতেও সেরাজ্যের বিজেপি সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, ‘মালদহে চিঠি এক সপ্তাহেই, মণিপুরে তিন মাস পরে কেন?’
তাঁদের মতে, প্রায় তিনমাস ধরে মণিপুরে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে চলেছে। দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর পর গণধর্ষণের ভাইরাল ভিডিও-ও সামনে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হল না? কমিশনের অবশ্য দাবি, বিষয়টি জানতে পারার পরই পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে আর কোনও হিংসার ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্যই মণিপুরের সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ জুলাই মালদহের বামনগোলায় পুলিশের উপস্থিতিতেই চোর সন্দেহে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে জুতোপেটা করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নালাগোলা ফাঁড়ি ভাঙচুর কাণ্ডের মিথ্যে কেসে নির্যাতিতাদেরই গ্রেফতারের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ভিডিও টুইট করেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। এরপরই বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায়।
নির্যাতিতার পরিবারের তরফেও পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যে কেসে ফাঁসানোর অভিযোগ জানানো হয়। সোমবার এই বিষয়ে মালদহ জেলা আদালতে পুলিশের ভূমিকার নিন্দা করেছেন সরকারি আইনজীবীও। আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দুই নির্যাতিতা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে করেছে জেলা পুলিশ। এবিষয়ে গত ২৩ জুলাই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা মালদহ জেলা আদালতের আইনজীবী উজ্জ্বল দত্ত। তারপরই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মণিপুর আমাদেরও ভাবাচ্ছে, কিন্তু বাংলায় মেয়েদের উপর অত্যাচারের কথা কি বলা যাবে না? অগ্নিমিত্রা