দ্য ওয়াল ব্যুরো : এখন থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রতিটি বার্ষিক সাধারণ সভা ও বিশেষ সাধারণ সভায় বাজবে জাতীয় সঙ্গীত। ব্যাঙ্কের গত বার্ষিক অধিবেশনে এক অংশীদার এই প্রস্তাব দেন। ব্যাঙ্কের নন এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সুনীল মেহতা তা অনুমোদন করেন।
সেবি এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার আইনে বলা নেই যে, কোনও কোম্পানি বা ব্যাঙ্ককে বার্ষিক এবং বিশেষ সভার সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে হবে। মেহতা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ব্যাঙ্কের প্রতিটি বার্ষিক ও সাধারণ সভায় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হবে। এছাড়া ওই বৈঠকে ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিট ও লাভ-লোকসান নিয়ে আলোচনা হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, এমপ্লয়িজ স্টক পারচেজ স্কিমে কর্মীদের ১০ কোটি টাকার ইকুইটি শেয়ার কেনার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারকে বিশেষ গুরুত্বের ভিত্তিতে শেয়ার বিক্রি করে তোলা হবে ২৮১৬ কোটি টাকা।
প্রাইম ডাটাবেস সংস্থার পৃথ্বী হলদিয়া বলেন, অনেক কোম্পানি কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের শুরু ও শেষে জাতীয় সঙ্গীত বাজায়। বহু কর্পোরেট ও সরকারি অনুষ্ঠানে আমি জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে শুনেছি। কর্পোরেট সেক্টরে কেউ জাতীয় সঙ্গীত বাজালে ক্ষতি কি?
ইনগভর্ন রিসার্চ সার্ভিস নামে এক কর্পোরেট গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইসারি ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি শ্রীরাম সুব্রমনিয়াম বলেন, আমার মনে হয় না ভারতে আর কোনও কোম্পানি বার্ষিক বা বিশেষ সাধারণ সভায় জাতীয় সঙ্গীত বাজায়। অংশীদারদের ওপরে জাতীয় সঙ্গীত চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বেশ অদ্ভূত।
চলতি বছরের শুরুতেই ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কাণ্ডে তোলপাড় হয় পিএনবি। ২৯ জানুয়ারি মণিরত্নের ব্যবসায়ী নীরব মোদী, তাঁর স্ত্রী অমি মোদী, ভাই নিশাল মোদী এবং মামা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে মামলা করে সিবিআই। অভিযোগ, তাঁরা জালিয়াতি করে পিএনবি থেকে ২৮০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন।
নীরব মোদীর জন্ম গুজরাতে। তিনি ফায়ারস্টার ডায়মন্ড নামে এক সংস্থার মালিক। এছাড়া দিল্লি, মুম্বই, নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, হংকং ও ম্যাকাউতে তাঁর খুচরো ব্যবসা আছে। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন অ্যাভিনিউতে তাঁর দোকান উদ্বোধনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোর্বস পত্রিকার ২০১৭ সালের বিলিওনেয়ারদের তালিকায় তিনি কনিষ্ঠতম ভারতীয় বিলিওনেয়ার হিসাবে স্থান পেয়েছিলেন।
নীরব মোদীর কেলেঙ্কারি ধরা পড়ার পরে পিএনবি অন্যান্য বকেয়া ঋণ আদায়ে উদ্যোগী হয়।