
শেষ আপডেট: 14 April 2022 10:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে শিল্পের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলন বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস (BGBS) সামিটে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নরেন্দ্র মোদী কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিতে ২০ এপ্রিল কলকাতায় আসছেন?
নবান্নের কর্তারা এই প্রশ্নের জবাব এড়াচ্ছেন। রাজ্য বিজেপির নেতাদের কাছেও প্রধানমন্ত্রীর আসার কোনও খবর নেই। রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন, গোয়েন্দা এজেন্সিগুলিও জানাচ্ছে তাদেরকেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। হিসাব মতো আর ছয় দিন পর বিজিবিএস শুরু।
নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার, তা দিন দশেক আগে থেকে শুরু করে দিতে হয়। লক্ষণীয় হল, মুখ্যমন্ত্রীও বিজিবিএসে প্রধানমন্ত্রীর আসা, না আসা নিয়ে কিছু বলছেন না। অতীতে এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের তরফে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, বর্তমান সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, খাদ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়াল প্রমুখ উপস্থিত থেকেছেন। অবশ্য তখন কেন্দ্র-রাজ্য সন্পর্ক অনেকটাই মধুর ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর আসা না আসা নিয়ে অন্য কিছু প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি। গত বছর বিধানসভা ভোটের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সারতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বিজিবিএস উদ্বোধনের জন্য মৌখিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর নিজের রাজ্যে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে চালু করা শিল্প সম্মেলন ‘ভাইব্রেন্ট গুজরাত’ উদ্বোধন করেন। বিজেপি শাসিত আরও অনেক রাজ্যেও এমন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
কিন্তু সৌজন্য সাক্ষাৎকারের সময়ে মৌখিক আমন্ত্রণের পর লিখিতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে আন্ত্রমন্ত্রণ জানিয়ে নবান্নের তরফে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চিঠি গিয়েছে কি না, সে ব্যাপােরও মুখ্যমন্ত্রীর অফিস চুপ। তেমন চিঠি গিয়ে থাকলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর কী জবাব দিয়েছে, জবাব মিলছে না সেই প্রশ্নেরও।

বিজেপির একাংশ আগেই আপত্তি তুলে বলেছিল, ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপি কর্মীর মৃত্যু তো আছেই, আরও নানা কারণেই প্রধানমন্ত্রীর বাংলার শিল্প সম্মেলন এড়ানো উচিত। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁকে এক মঞ্চে দেখলে বিজেপি কর্মীরা মনে আঘাত পাবে।
রাজ্যের চলতি রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্য বিজেপির নেতারাও চান না প্রধানমন্ত্রী বাংলার শিল্প সম্মেলনে যোগ দিন। কারণ, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে অনেক সুবিধা করে দেবে বলে তাঁদের আশঙ্কা। দেউচা পাচামিতে আদিবাসীদের জমির উপর কয়লা খনি প্রকল্প গড়তে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম-কংগ্রেস এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে জনমত তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী শিল্প সম্মেলনে যোগ দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদীর যোগদানকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করবেন, মনে করছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা।
যদিও বিজেপির সর্ব-ভারতীয় সহ-সভাপতি দ্লীপ ঘোষের বক্তব্য, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে না আসার পরামর্শ দেব না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কিছু সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায় আছে। তবে উনি আসছেন বলে আমাদের কাছে অন্তত্য কোনও খবর এখনও পর্যন্ত নেই।
বিমানকে পাত্তাই দিলেন না ধনকড়, একাই বলে চললেন, বিধানসভায় ফের সংঘাত