দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈহাটির বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কেঁপে ওঠে গঙ্গার অপরপারও। আচমকা বীভৎস শব্দের সঙ্গে বাড়িতে ফাটল ভেঙে পড়ে অ্যাজবেস্টসের ছাদ... আচমকা এমন ঘটনায় এলাকার লোকজন মনে করেন মাথায় বুঝি আকাশ ভেঙে পড়ল!
হুগলি-চুঁচুড়ায় বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনকী ভেঙে পড়েছে পুরসভা ভবনের কাচও। বিকট আওয়াজে সবকিছু ভেঙে পড়তে দেখে আতঙ্কে পথে নেমে পড়েন বাসিন্দারা। চুঁচুড়ার বাসিন্দা অর্পিতা দাস বলেন, “আগেও বোমা ফেটেছে কিন্তু এদিন আগুন ছিটকে এপারে চলে এসেছে। ভীষণ জোরে শব্দ হয়েছে। ওপার থেকে ছাই পর্যন্ত উড়ে এপারে এসেছে। আমাদের বাড়ির পাঁচিলে ফাটল ধরেছে, জানলার কাচ ভেঙে পড়েছে। কিছুক্ষণের জন্য সকলে ভয়ে স্তব্ধ হয়ে যাই।”
হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের এখানে পুসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিলের বৈঠক চলছিল, তারমধ্যেই এই শব্দ পেয়ে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি। বেরিয়ে এসে পূর্বদিকে ধোঁয়া দেখতে পাই।... পরে খবর নিয়ে জানতে পারি বিস্ফোরণ ঘটানোর কথা। এখানে অনেক পুরনো বাড়ি আছে, সেগুলির ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে অনেক বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে, দরজার কাচ ভেঙে গেছে।”
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সর্বাণী মণ্ডল। তাঁর ঘরের অ্যাজবেস্টসের ছাদ ভেঙে পড়েছে। সেই সময় তিনি ঘরে ছিলেন না, তবে তাঁর শিশুপুত্র ঘুমচ্ছিল। অ্য়াসবেস্টস সরিয়ে তিনি তাকে উদ্ধার করেন। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর শ্বশুর, তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। দীর্ঘক্ষণ পরেও তাঁদের বাড়ির সকলের চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।
[caption id="attachment_175671" align="aligncenter" width="600"]

অনেক বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়েছে।[/caption]
ভেঙে পড়েছে পুরভবনের জানলার কাচও। চুঁচুড়ার পুরকর্মী সৌমিত্র সিংহ ভীষণ বিরক্ত। তিনি বলেন, “এমনিতে শব্দবাজির মাত্রা বেঁধে দেওয়া আছে, কিন্তু এক্ষেত্রে তা মানা হল না। এমন বীভৎস ভাবে নিষ্ক্রিয় না করে ওই বারুদ নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে ধ্বংস করা উচিত। অসুস্থ মানুষ তো প্রাণে মারা যাবেন!”

গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “...আমরা দ্রুত পুলিশ ও দমকলে খবর দিই। মানুষকে আতঙ্কমুক্ত করার চেষ্টা করছি। এই ধরনের কোনও পরীক্ষা করার আগে যাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় সে ব্যাপারে আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
[caption id="attachment_175673" align="aligncenter" width="600"]

ক্ষতিগ্রস্ত বহু বাড়ি[/caption]
বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “ওপারে যিনি পুলিশ কমিশনার আছেন আমি তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। যাতে এমন ঘটনা আর ঘটে সে ব্যাপারটি তিনি দেখছেন। অবশ্যই আর এমন ঘটনা ঘটবে না। যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষজনের কী ভাবে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় তা আমরা দেখছি।” এনিয়ে তাঁরা রিপোর্ট তৈরি করছেন।