
শেষ আপডেট: 2 March 2023 02:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: শুধু কালীপুজোর (Maa Kali) সময়টুকু নয়, এবার সারাবছর যাতে ভক্তবৃন্দরা এসে মায়ের দর্শন করতে পারেন, তাই কষ্টিপাথর (Koshtipathar) দিয়ে নবরূপে তৈরি হচ্ছে নৈহাটির বড়মা (Naihati Barama)। আর ছয় বছর পরেই শতবর্ষে পা দেবে এই পুজো। তার আগেই স্থায়ী মূর্তি গড়ার উদ্যোগ নিল নৈহাটির বড়মা পুজো সমিতি। ইতিমধ্যে রাজস্থান থেকে আনা হয়েছে এক শিল্পীকে। ধর্মেন্দ্র পাশোয়ান নামের ওই ব্যক্তিই উদয়পুর থেকে আনা কষ্টিপাথর কেটে মায়ের মূর্তি গড়ছেন।
জানা গেছে, কষ্টিপাথর দিয়ে সাড়ে চার ফুটের মূর্তি গড়ে তোলা হবে। সেই বিগ্রহেই নিত্যপুজো সম্পন্ন হবে। এমনিতে কালীপুজোর সময় মৃৎশিল্পীরা ২১ ফুটের কালীমূর্তি তৈরি করেন। তবে কষ্টিপাথরের মূর্তিটি সেই তুলনায় অনেকটাই ছোট হবে। বেদির উপর এই নতুন বিগ্রহ বসালে উচ্চতা হবে সাড়ে সাত ফুট। আর কয়েক মাসের মধ্যেই স্থায়ী বিগ্রহ তৈরি হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠা করা হবে মন্দিরে। দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট, তারাপীঠ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শক্তিপীঠ থেকে পুরোহিত এনে সেদিন এখানে হবে পুজো এবং হোম-যজ্ঞ।
নৈহাটি বড়মা পুজো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বড়মার মন্দির তৈরির জন্য রাজ্যের অন্যান্য জেলা, এমনকী ভিনরাজ্য, বিদেশ থেকেও আর্থিক সাহায্য আসছে। চলতি বছরের মধ্যেই সেখানে পুণ্যার্থীদের জন্য ধর্মশালা চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে নৈহাটির অরবিন্দ রোডে পাঁচতলা ধর্মশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকছে। তবে সারাবছর এই কষ্টি পাথরের বিগ্রহে মায়ের নিত্যপুজো হলেও কালীপুজোর সময় পুরনো ঐতিহ্য মেনে ২১ ফুটের প্রতিমাই তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, এই কালীপুজোর ইতিহাস জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে গত শতকের শুরুর দিকে। নৈহাটির বাসিন্দা ভবেশ চক্রবর্তী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে নদিয়ার শান্তিপুরে গিয়েছিলেন রাস উৎসব দেখতে। সেখানে রাসের সময় বিশাল বিশাল কালীমূর্তি দেখে তাঁরও সাধ হয় নৈহাটিতে এমন বড় বিগ্রহ তৈরি করে মায়ের পুজো করার। সেই মতোই বাড়ি ফিরে অরবিন্দ রোডে মা কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এই কালী প্রতিমা ভবেশ কালী নামেই পরিচিত ছিল। তবে কালের নিয়মে এই ভবেশ কালীই এখন বড়মা।
বিশ্বভারতীতে হবে না বসন্তোৎসব, ‘তাণ্ডব হত, তাই বন্ধ করেছি’, বললেন উপাচার্য