দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ভোটের ফলাফলকে বিপর্যয় বা ভরাডুবি হিসেবে দেখছে না বিজেপি। বরং তিন থেকে ৭৭ হওয়াকেই বড় করে দেখাতে চাইছে গেরুয়া নেতৃত্ব। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির কার্যকরী কমিটির সভার শুরুতে যেমন দিলীপ ঘোষ এই ফলাফলকে বড় সাফল্য বলে দেখাতে চেয়েছিলেন তেমন বিকেলে সমাপ্তি বক্তৃতায় রাজ্য বিজেপির পিঠ চাপড়ে দিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।
দিল্লির দীনদয়াল মার্গ এবার পাখির চোখ করেছিল বাংলাকে। কেন্দ্রীয় বিজেপি সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়েছিল একুশে বঙ্গ বিজয়ের লক্ষ্যে। প্রচার পর্বে গেরুয়া শিবিরের আগ্রাসনও প্রত্যক্ষ করেছিল রাজ্যের মানুষ। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে ৭৭টি আসন জিতেছে বিজেপি। যেন হুবহু হিসেব মিলিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। সেই কবে থেকে তৃণমূলের ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট বলেছিলেন, বিজেপি বাংলায় তিন অঙ্ক ছুঁতে পারবে না!" সেসময় গেরুয়া নেতারা অনেক কথা বললেও ভোটের ফলে দেখা গিয়েছে দুশো তো দূরের কথা ৮০-ও টপকাতে পারেনি বিজেপি।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে রাজ্য নেতাদের প্রশংসা করবে এটাই দস্তুর। কারণ এবার সবাই জানেন, বাংলার ভোট আসলে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে দিল্লি বিজেপির হেড কোয়ার্টার থেকেই। গোটা দেশের সাংগঠনিক নেতা, কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী, ভিন রাজ্যের বিধায়করা বাংলায় এসে দিনের পর দিন কার্যত ক্যাম্প করে ছিলেন। অনেকের মতে, এরপর যদি কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যের সমালোচনা করে তাহলে ব্যুমেরাং হতো। তাছাড়া অনেকে এও বলছেন, রাজ্য নেতাদের প্রশংসা করে আসলে নিজেদের পিঠ নিজেরাই চাপড়ে দিচ্ছেন নাড্ডারা।
এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই বাংলাকে 'সিরিয়াসলি'ই নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। বাংলা সম্পর্কে এতটাই মনোনিবেশ করেছিলেন মোদী-শাহরা যে তা দেখে অসমের এক প্রথম সারির নেতা নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন, "আমাদের রাজ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনও মাথা ব্যথাই নেই। সবাই এখন বাংলা নিয়ে ব্যস্ত।"
বিজেপি এখন দেখাতে চাইছে তারা পাঁচ বছরে তিন থেকে ৭৭ হয়েছে। পাঁচ বছর আগে তারা বাংলায় ছিল প্রান্তিক শক্তি এখন প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল। যদিও অমিত শাহদের ইস বার দোশো পারের কথা উল্লেখ করছেন না নেতারা। অনেকেই বলছেন, এখন আধ গ্লাস জলকে অর্ধেক ভরা দেখানো ছাড়া কোনও উপায় নেই। কেন না যে ভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে তথাগত রায়দের মতো প্রবীণ বিজেপি নেতারা সর্বভারতীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে টিপ্পনি, হিন্দি ভাষার আগ্রাসন নিয়ে ময়দানে নেমেছিলেন সেখানে এখন ম্যানেজ করা ছাড়া উপায় নেই। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় নেতারাও জানেন, বাংলায় মুখ পুড়েছে। উনিশের লোকসভার সাফল্যও ধুয়েমুছে গেছে। এখন এভাবে মলম দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
আর সব দেখে তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, "বিজেপিকে দেখে সেই শিয়ালের কথা মনে পড়ছে। আঙুর ফল টক!"