রফিকুল জামাদার
বেতন কাঠামো নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অভাব-অসন্তোষ নতুন নয়। ডিএ মামলা এখনও আদালতে ঝুলে রয়েছে। তবে নিচুতলার কর্মচারীদের বেতন বাড়ুক বা না বাড়ুক, নবান্নের শীর্ষ আমলাদের ভাতা এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল।
সেই ভাতার পোশাকি নাম কী? কার কত ভাতা বাড়ল?
এই ভাতাকে বলা হচ্ছে সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্স। সব দফতরের সচিবরা এই ভাতা পাবেন। সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্সকে বলা যেতে পারে বিনোদন ভাতা বা অতিথি আপ্যায়নের জন্য খরচ বাবদ ভাতা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, নবান্নে কোনও আমলার সঙ্গে কেউ দেখা করতে গেলে যে চা-বিস্কুট খাওয়ানো হয়, সেই খরচ তো সরকারই বহন করে। তা হলে আলাদা করে ভাতার কী প্রয়োজন? অনেকের মতে, এ ধরনের ভাতা কর্পোরেট ক্ষেত্রে থাকতে পারে, কিন্তু সরকারি দফতরে তো মানুষ পরিষেবা নিতে যায়, সেখানে অতিথিকে খুশি করার আয়োজন না থাকলেও চলে! তবে এও ঠিক যে, কেন্দ্রীয় সরকারি আমলারা সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্স পান এবং হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও এ ধরনের ভাতা পান।
এখন প্রশ্ন হল, সব সচিবেরই একই হারে বেতন তথা ভাতা বাড়ছে? নবান্নের বিজ্ঞপ্তি থেকে স্পষ্ট যে, তা নয়। যেমন মুখ্য সচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিবরা সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্স পাবেন মাসে ৩৪ হাজার টাকা। বলাবাহুল্য রাজ্য সরকারি হাজার হাজার কর্মচারী মাসে ৩৪ হাজার টাকা মাইনেই পান না।
রাজ্য সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিরা মাসে সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্স পাবেন মাসে ২০, ৪০০ টাকা। আর দফতরের সচিব তথা হেড অফ দ্য ডিপার্টমেন্ট পাবেন মাসে ১৭ হাজার টাকা। তবে বেতনের সঙ্গে এই ভাতা দেওয়া হবে না। প্রতি মাসে বেতনের পর আলাদা করে এ জন্য বিল বানাতে হবে আমলাদের। সেই বিল রিইম্বার্স করা হবে কোষাগার থেকে।

এই বিজ্ঞপ্তির আগে নবান্নের তরফে কদিন আগে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আমলাদের বিশেষ ভাতা বাড়ানো হয়েছে। সেই সময়ে মুখ্য সচিবের স্পেশাল অ্যালাওয়েন্স বেড়েছিল মাসে ৬ হাজার টাকা। অতিরিক্ত মুখ্য সচিবদের স্পেশাল অ্যালাওয়েন্স বাড়ানো হয়েছিল মাসে ৫ হাজার টাকা। আর দফতরের সচিবদের মাসে ৪ হাজার টাকা করে স্পেশাল অ্যালাওয়েন্স দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।

অনেকের মতে, আগের স্পেশাল অ্যালাওয়েন্স আর এবারের সাম্পচুয়ারি অ্যালাওয়েন্স মিলে ডবল বোনাঞ্জা হল শীর্ষ আমলাদের।
এ ব্যাপারে নবান্নের কোনও কর্তাই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করছেন না। তবে নবান্নে করণিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। একাংশ কর্মীর মতে, সরকার বুঝে গিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অখুশি হলেও ক্ষতি নেই। লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার, দুয়ারে সরকার ইত্যাদি খয়রাতি প্রকল্পের মাধ্যমে জনতাকে খুশি রাখলেই চলবে। আর এই সব প্রকল্প যাঁরা বাস্তবায়িত করবেন সেই আমলারা খুশি থাকলেই হল।
এ ব্যাপারে রাজ্য স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঙ্কেত চক্রবর্তী বলেন, “এই সরকার আমলাতন্ত্রের উপর ভরসা করেই চলেছে। তাই তাঁদের বিনোদনের জন্য সাম্পচুয়ারি তথা এন্টারটেইনেমন্ট অ্যালাওয়েন্স দিলেন। একমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যই মুখ্যমন্ত্রীর টাকা থাকে না”।