দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশিষ্ট হার্ট সার্জন দেবী শেট্টি জানিয়েছিলেন, কোভি়ডের তৃতীয় ঢেউ যদি সত্যিই আসে তা হলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা বয়স্কদের তুলনায় কঠিন। সুতরাং আগাম ব্যবস্থা এখন থেকেই রাখতে হবে।
শুধু দেবী শেট্টি কেন, অনেক বিশেষজ্ঞের তাই মত। সেই মোতাবেক তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় হাসপাতালে শিশুদের জন্য বেডের ব্যবস্থা শুরু করে দিল নবান্ন। পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট তথা পিকু, স্পেশাল নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিট তথা এসএনসিইউ এবং জেনারেল বেড মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার বেডের বন্দোবস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে পরিকাঠামো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যে প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে হবে। ভেন্টিলেটর থেকে পাল্স অক্সিমিটার ইত্যাদি যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সমেত অগস্টের মধ্যে শিশুদের ওয়ার্ড এবং পিকু, এসএনসিইউ রেডি করে ফেলতে হবে।
দেবী শেট্টির মতে, শিশুরা ছটপটে। এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের চিকিৎসার তুলনায় তাদের চিকিৎসা করা তাই কঠিন। তাই কম বয়সী চিকিৎসক ও নাসর্দের তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব দিলে ভাল। বড় কথা হল, শিশুদের কোভিড ওয়ার্ডে তাদের সঙ্গে তাদের মায়েরাও থাকবেন। সুতরাং তৃতীয় ঢেউ আসার আগে কম বয়সী দম্পতিদের কোভিড টিকাকরণ হয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়।
এদিন নবান্ন যে নির্দেশ জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের পাঠিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—
• ৩ মাস থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের শরীরে করোনার মৃদু বা মাঝারি উপসর্গ দেখা দিলে তাদের সরকারি হাসপাতালে জেনারেল বেডে রেখে চিকিৎসা করার দরকার হতে পারে। তাই ১০ হাজার বেড রেডি রাখতে হবে।
• এ ছাড়া সদ্যোজাতদের জন্যও পৃথক কোভিড ওয়ার্ড তৈরি করতে বলা হয়েছে। কোভিডে আক্রান্ত ১ থেকে ৯০ দিন বয়সি শিশুদের জন্য ৩৫০ এসএনসিইউ বেড তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।
• স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ, কোভিড আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক পে়ডিয়াট্রিক আইসিইউ-র ব্যবস্থাও করতে হবে। ১৩০০ পিকু বেড তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এও বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলিতে যে পিকু বেড রয়েছে তার অতিরিক্ত এই সংখ্যক বেড রেডি করতে হবে। রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতালেই পিকুর পরিকাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
• বাংলায় কোভিডের সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে দুই জেলায়। কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনায়। কলকাতার ১০টি হাসপাতালে কোভিডে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ২৪০ টি পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বেড বরাদ্দ করতে বলা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার ১২টি হাসপাতালে কোভিডে আক্রান্ত শিশুদের জন্য মোট ১৩৫ টি পিকু বেডের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে।
• এরই পাশাপাশি নার্স ও আশাকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করছে সরকার।