দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ মানুষ পরের কথা, সূত্রের খবর, সরকারের মন্ত্রীরাই মুখ্য সচিবকে জানিয়েছিলেন, একাংশ বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়ম চলছে। কেউ নার্সদের একই মাস্ক তিন-চারদিন ধরে পরতে বলছেন, কেউ একই পিপিই বারবার ব্যবহার করছে। অথচ রোগীরা যখন বিল হাতে পাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে বিলে মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই বাবদ লম্বা হিসাব।
দুই, অনেকের অভিযোগ বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না। খালি বলছে বেড নেই। প্রভাবশালী হলে তবেই নাকি বেড মিলছে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর আজ বিষ্যুদবার রাজ্যের ২৫ টি বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিদের ডেকে কতগুলি বিষয় পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। পরে মুখ্য সচিব সাংবাদিক বৈঠকে সেগুলি জানান।
“রোগীদের উপর আনুসঙ্গিক সব খরচ খরচা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি রোগীর থেকে চিকিৎসকদের পিপিই বাবদ রোজ টাকা ধার্য করা হবে, এটা হতে পারে না”। স্বাস্থ্য দফতরের এক অফিসার বলেন, কোভিড ওয়ার্ডে রোগীপিছু নার্স বা ডাক্তাররা নিশ্চয়ই আলাদা মাস্ক পরছেন না। কিন্তু অনেক বেসরকারি হাসপাতাল প্রত্যেক রোগীর বিলেই মাস্ক গ্লাভসের হিসাব দিচ্ছেন। তা চলবে না।
বেড থাকলে কোনও ভাবেই রোগীদের ফেরানো যাবে না। মুখ্যসচিব বলেন, “আমরা হাসপাতালগুলিকে বলেছি। ওঁরা বলেছেন রোগী ফেরাবেন না”।
“কত কোভিড বেড ফাঁকা আছে তা বেসরকারি হাসপাতালকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওয়েবসাইটে আপডেট করতে হবে এবং হাসপাতালের বাইরে ডিসপ্লে করতে হবে। যাতে রোগীর পরিবার বুঝতে পারে।”
“কোনও কর্মীর মাইনে কাটা যাবে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন রয়েছে। তা মানতে হবে”।
“কোন সরকারি হাসপাতালে কত বেড খালি আছে সেই তথ্য 'এগিয়ে বাংলা' ওয়েবসাইটে ঘণ্টায় ঘণ্টায় আপডেট করা হবে। যাতে রোগীর পরিবার আগে থেকেই বিষয়টিতে অবগত থাকে”।
কোভিড চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকার বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতালকে ব্যবহার করছে। সেখানে যাঁদের চিকিৎসা চলছে সেই খরচ সরকারই বহন করছে। তা বাদ দিয়ে যে বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে এদিন তাদের প্রতিনিধিদেরই ডাকা হয়েছিল।
গতকালই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যাঁদের মৃদু উপসর্গ রয়েছে তাঁদের হাসপাতালের পরিবর্তে সেফ হাউসে রাখা হবে। রাজ্য সরকার ১০৪টি সেফ হাউস করছে। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি হাসপাতালে বেডের সংকট তৈরি হয়েছে? ইতিমধ্যেই দিল্লিতে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এদিন মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি মিলয়ে রাজ্যে প্রায় ১০ হাজার ১০০ বেড রয়েছে। তার মধ্যে এখন ৮০ শতাংশ ফাঁকা পড়ে রয়েছে।