রফিকুল জামাদার
কোভিড সংক্রমণ রুখতে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে একাধিক বিধি কার্যকর করার জন্য জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন। সেখানে মূলত দুটি কথা বলা হয়েছিল। পর্যটন কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে হয় টিকার দুটি ডোজ নেওয়া থাকতে হবে নইলে আরটিপিসিআর টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট লাগবে। কিন্তু এই কড়াকড়ি পর্যটন শিল্পে বেশ প্রভাব ফেলছে বলেই মনে করছে নবান্ন। সূত্রের খবর, তাই রবিবার জেলাশাসকদের বার্তা দিয়ে এ ব্যাপারে বিধি কিছুটা শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, কোনও ভাবেই যেন বিধিনিষেধ পর্যটন শিল্পের উপর আঘাত না আনে। সেক্ষেত্রে আরটিপিসিআর টেস্টের বদলে ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা কেন?
অনেকের মতে, ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে খরচ অনেক কম। ধরা যাক, একটি পরিবারের পাঁচ জন দিঘায় যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে পাঁচ জনের আরটিপিসিআর টেস্ট করাতে সাড়ে সাত হাজার টাকা লেগে যাবে। যা হয়তো হোটেল ভাড়ার সমান। ফলে অনেকেই পিছু হঠছেন।
কোভিড পরিস্থিতিতে গত দেড় বছর ধরে পর্যটন শিল্পের অবস্থা এমনিতেই খারাপ। বারবার লকডাউন কার্যত গোটা পর্যটন শিল্পের মাজা ভেঙে দিয়েছে। হতে পারে সে কারণেই আরটিপিসিআর টেস্টের বদলে ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হুগলির শ্রীরামপুরের প্রভাস নগরের বাসিন্দা মিঠুন চক্রবর্তী আপাতত বন্ধুদের সঙ্গে দার্জিলিংয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা দার্জিলিংয়ে যেদিন এসে পৌঁছেছি সেদিন রাজ্য সরকার এই ঘোষণা করেছিল। ফলে আমাদের এই বিধির মধ্যে পড়তে হয়নি। কিন্তু তারপর যাঁরা আসছেন তাঁদের কাছে হয় ডবল ডোজ ভ্যাকসিন অথবা আরটিপিসিআর টেস্টের রিপোর্ট দেখতে চাওয়া হচ্ছে। অনেকের কাছেই আরটিপিসিআর টেস্টের খরচ বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একটা পরিবারের অনেকে মিলে এলে সেই টাকার অঙ্কটা বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।"
দিঘাতেও দেখা গিয়েছে ঢোকার মুখে কী পরিমাণ কড়াকড়ি চলছে। নিয়ম নিয়ে হোটেল মালিকদের অনেকেও ধন্দে রয়েছেন। গোটা পরিস্থিতি দেখেই হয়তো এদিন এই নির্দেশ দিল নবান্ন।