
শেষ আপডেট: 8 August 2023 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও নবগ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড (Nabagram Panchayet Board) হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্কে ভুগছে শাসকদল! হুগলি (Hooghly) জেলায় পঞ্চায়েতে ভালো ফল করেছে তৃণমূল। উত্তরপাড়া শ্রীরামপুর ব্লকে ছ’টি পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটি পঞ্চায়েত জিতেছে। আর একটি পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়েছে। তবে তৃণমূল পাঁচটি পঞ্চায়েত জিতলেও, উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর ব্লকে প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েতে বিরোধীরা বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছে।
পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের টিকিট বিলির সময়েই ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দলের পুরনো কর্মীরা। কারও সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের কাছের লোকেদের টিকিট দিয়েছে ব্লক সভাপতি, এমনটাই অভিযোগ ছিল তাঁদের। যোগ্যরা বঞ্চিত হয়েছে বলেও আওয়াজ তুলেছিলেন তাঁরা। এরই ফলস্বরূপ বিরোধীরা ভালো ফল করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও ভোটে খারাপ ফলের দায় সম্পূর্ণ ব্লক সভাপতির উপর চাপিয়েছেন অপূর্ব মজুমদার। এদিন তিনি বলেন, “দলের প্রার্থী ঠিক করার সময়েও আমার মতামত মানেননি ব্লক সভাপতি। আমি যাঁদের বলেছিলাম তাঁদের প্রার্থী করা হলে নবগ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের আরও চারটি সিট বাড়ত। যারা যোগ্য তাঁদের নমিনেশন করানোর পরেও প্রত্যাহার করানো হয়।”
তাঁর দাবি এই আসনগুলিতেই এবার বিরোধী সিপিএম ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে। এখানে বোর্ড চালাতে গেলে অভিজ্ঞ লোকের দরকার। তাঁর কথায়, “এই ক্ষেত্রেও অঞ্চল সভাপতির মতামত না নিয়ে ব্লক সভাপতি নবগ্রাম কো অপারেটিভ ব্যাংকের সভাপতি যিনি তৃণমূল দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পছন্দের লোকদের প্রধান আর উপপ্রধান করেছে। এই অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কীভাবে বোর্ড চালাবে সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
ব্লক সভাপতির সিদ্ধান্তে অখুশি নবগ্রাম অঞ্চল তৃণমূলের কর্মীরাও। তৃণমূল কর্মী পার্থ বিশ্বাস বলেন, “অঞ্চল সভাপতি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দায়িত্বে রয়েছেন। তার সময়ে এলাকায় কলেজ, স্কুল সব জায়গায় তৃণমূল জয় পেয়েছে। কিন্তু ব্লক সভাপতির এসব সিদ্ধান্তের জন্য দলের খারাপ ফল হল।”
যদিও এই বিষয়ে ব্লক সভাপতি নিখিল চক্রবর্তী বলেন, “সবার মতামত নিয়ে তবেই সব সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রধান-উপপ্রধান ঠিক করা হয়েছে। উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর ব্লকে দলের ফলাফল খারাপ হয়েছে সেই ভুল সব শুধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে অঞ্চল সভাপতি যেটা বলছেন সেটা ঠিক নয়।”
নবগ্রাম পঞ্চায়েতে শাসকদলের দ্বন্দ্বের আবহে ঘোলা জলে মাছ ধরতে তৎপর বিরোধী শিবির। সিপিএম সূত্রে জানা গেছে নবগ্রামে একটি আসনের জন্য ম্যাজিক ফিগার পায়নি তারা। যেহেতু একটি সিটে তাঁরা পিছিয়ে, তাই প্রধান ও উপপ্রধান সিটে তাদের জয়ী প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করবে তারা। বিজেপি নেতা রাজেশ রজক বলেন, “তৃণমূলে সব জায়গায় টাকার খেলাই চলে। যে বেশি টাকা দেবে সেই পাবে।” এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় পঞ্চায়েত ভোটে শাসক দল তৃণমূল দশ তারিখ আদৌ বোর্ড করতে পারবে কিনা নবগ্রামে নিয়েই চলছে জোর চর্চা।
আরও পড়ুন: অপহৃত প্রার্থীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করুন, আইসি-কে নির্দেশ সার্কিট বেঞ্চের