দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার নতুন প্রজাতি তথা নতুন ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। হতে পারে এই নতুন স্ট্রেন আগে থেকেই ছড়িয়ে আছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও, এমনই সম্ভাবনার কথা বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।
দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে লাগামহীন ভাবে ছড়িয়েছে করোনার এই নতুন স্ট্রেন। হু-র বিজ্ঞানী বলছেন, নতুন ভাইরাল স্ট্রেনের ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা বা ট্রান্সমিশন রেট ৭০ শতাংশের বেশি। তবে এই ভাইরাল স্ট্রেন সংক্রামক কিনা বা কোনও জটিল রোগ তৈরি করছে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। সৌম্যা বলেছেন, একাধিক জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন হয়েছে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনে। তাই খেয়াল রাখতে হবে যেসব দেশে এই ‘মিউট্যান্ট’ স্ট্রেন ছড়িয়েছে, সেখানে কোনও সংক্রামক রোগ দেখা যাচ্ছে কিনা।
সেপ্টেম্বরেই এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছিল দক্ষিণ ইংল্যান্ডে। তারপর গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অক্টোবরে ব্রিটেনের ৫০ শতাংশ করোনা আক্রান্তের শরীরেই এই নতুন স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল। সৌম্যা বলছেন, হতেই পারে এই স্ট্রেন পুরনো। আগে থেকেই ছড়িয়েছিল বিশ্বের নানা দেশে। অথবা এই ভাইরাল স্ট্রেনের সঙ্গে মিল আছে এমন কোনও স্ট্রেনও ছড়িয়ে থাকতে পারে কয়েকটি দেশে। সেটা আগে খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন হু-র বিজ্ঞানী।
করোনার এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন বি.১.১.৭। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৭টা মিউটেশন হয়েছে এই ভাইরাল জিনে। যার মধ্যে দুটে মিউটেশন বা জিনের বিন্যাসের বদল খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড বদলে দিচ্ছে এই ভাইরাল স্ট্রেন। দুটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোড সম্পূর্ণ মুছে দিচ্ছে, ফলে এই ভাইরাল স্ট্রেনকে শণাক্ত করতে পারছে না দেহকোষ। সে কারণেই খুব দ্রুত কোষে ঢুকে বিভাজিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) জানিয়েছে, ডেনমার্কে ৯ জনের শরীরে এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডে দু’জনের শরীরে মিলেছে নতুন স্ট্রেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে স্পেনে গত অক্টোবরেই ছড়িয়েছিল এই নতুন ভাইরাল স্ট্রেন। স্পেনের কোনও ফার্ম থেকে এই ভাইরাল স্ট্রেন ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে বলে অনুমান। ডেনমার্কে গত মাসে লক্ষাধিক মিঙ্ক জাতীয় প্রাণীকে মেরে ফেলে হয়েছিল অনেকটা এই কারণেই। বিস্তারিত তথ্য সামনে না এলেও, শোনা যাচ্ছে, মিঙ্ক বা বেজি জাতীয় ওই প্রাণীদের শরীরে ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। গবেষকদের দাবি, সেই নতুন স্ট্রেন সার্স-কভ-২ ভাইরাল জিনের মতোই। তাই জেনেটিক মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস বদলে নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে কিনা সে নিয়ে তখন গবেষণা করছিলেন বিজ্ঞানীরা। সেই নতুন ভাইরাল স্ট্রেনই এখন ব্রিটেনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করেছে কয়েকটি দেশ। আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবধি ব্রিটেন থেকে সমস্ত বিমান বাতিল করেছে ভারত সরকার। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরবও একই পথে হেঁটেছে। নতুন ভইরাল স্ট্রেন নিয়ে যতক্ষণ না বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়, ততক্ষণ চিন্তার কারণ থাকবেই বলে মনে করছেন গবেষকরা।