দ্য ওয়াল ব্যুরো: বকরি ইদের জন্য কেরল সরকার তিন দিন কড়া লকডাউনে বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে। যা নিয়ে জাতীয় স্তরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে মহামারী পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেরলের বাম সরকার। কিন্তু বাংলার মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ। কেরল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভাল ভাবে দেখছেন না। একবাক্যে তাঁরা মেনে নিচ্ছেন, একেবারেই বিধিনিষেধ আলগা করা উচিত হয়নি। এতে আখেড়ে মানুষেরই ক্ষতি।
লেখক আলিমুজ্জামান বলেন, “আমাদের দেশে ধর্মটাকেই বড় করে দেখার চেষ্টা হয় সবসময়। ইদ হোক বা পুজো—কোভিডের এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই বিধিনিষেধে শিথিলতা দেখানো উচিত নয়। এতে সাময়িক আনন্দের জন্য বৃহত্তর ক্ষতি হয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্তকে কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না।”
রেড রোডে ফি বছর ইদে নামাজ পড়ান কারী ফজরুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি কেরলের পরিস্থিতি জানি না। তবে এই সময়ে কোনও উৎসবেই শিথিলতা দেখানো উচিত নয়।”
প্রসঙ্গত কেরলে সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে। সংক্রমণ রুখতেই সাপ্তাহিক লকডাউন ঘোষণা করেছিল পিনারাই বিজয়ন সরকার। কিন্তু তার মধ্যেই গত সপ্তাহে কেরল সরকার জানায়, তিন দিন অর্থাৎ রবিবার সোমবার এবং মঙ্গলবার সাপ্তাহিক লকডাউনের আওতায় পড়বে না। দোকান বাজার খোলা রাখা যাবে। তবে সবটাই হবে সামাজিক দূরত্ববিধি বজায় রেখে। উৎসবের সময় ধর্মীয় স্থানে যেতে পারবেন মানুষ। তবে একসঙ্গে ৪০ জনের বেশি জড়ো হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে কেরল সরকার।
বাংলায় মুসলিম পরিবারে ইদের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। দ্য ওয়াল - এর পক্ষ থেকে সাধারণ বহু ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয় কেরল সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বাংলায় তারা কী চান। রাজ্য সরকার ইদের জন্য আলাদা করে কোনও ছাড় ঘোষণা করেনি। করোনা কালের আগের ইদগুলিতেও ছাড় ছিল না। আবার সংখ্যালঘুদের কোনও সংগঠনও তেমন দাবি করেনি। তবে এ রাজ্যে সর্বত্রই দোকান বাজার স্বাভাবিক সময় পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।
তবে কেরলের পরিস্থিতি বাংলার থেকে খারাপ। সেখানে কড়াকড়ি বহাল রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন বলেন, “পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এ ব্যাপারে কঠোর হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুর্ভাগ্যজনক।” কেরল সরকারের সমালোচনা করেছেন ফুরফুরা শরফের বড় পীরজাদা ইব্রাহিম সিদ্দিকিও। তিনি বলেন, “আগে তো বাঁচতে হবে। তারপর তো সব কিছু। মানুষ যদি না বাঁচে তাহলে ইদ, পুজো, বড় দিন কোনও কিছুরই মানে থাকবে না। যত দিন না মহামারী থেকে মানুষ মুক্তি পাচ্ছে ততদিন শান্তি নেই। এই পরিস্থিতিতে ইদের জন্য ছাড় না দেওয়াই উচিত ছিল।”
যদিও সিপিএম অবশ্য ব্যাপারটাকে অন্য ভাবে দেখতে চাইছে। এক সর্বভারতীয় বাঙালি সিপিএম নেতা বলেন, ইদের প্রসঙ্গটা সামনে এনে আসলে বিজেপি তাদের নিজেদের অ্যাজেন্ডাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, অথচ কেরল সরকার বিধি মেনে শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশেরও অনুমতি দিয়েছে। সে নিয়ে কিছু বলছে না। তাতে ওদের উদ্দেশ্য সফল হবে না।