দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুস্থ-স্বাভাবিক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন পরভিনা বিবি। মুর্শিদাবাদের রানিনগরের বুধুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা তরুণী পরভিনা সেদিন দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি, কোলজোড়া ফুটফুটে সন্তানের জীবনে নেমে আসবে বিরল রোগের খাঁড়া!
মেয়ে লিমার বয়স যখন মাত্র এক মাস, তখনই হঠাৎ করে মাথা ফুলতে শুরু করে তার। প্রথমে তেমন কিছু বোঝা না গেলেও, কয়েক দিন পরে মাথা বড় হতে থাকলে, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন লিমার বাবা মিঠু শেখ। তিনি পরীক্ষা করে বলেন, বাচ্চার মাথায় জল জমেছে, অপারেশন করতে হবে।
সব শুনে মেয়েকে নিয়ে বহরমপুরে ছুটে যান মিঠু-পরভিনা। সেখানেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, স্ক্যান করে চিকিৎসকরা একই কথা জানান এবং অস্ত্রোপচারের জন্য রেফার করে দেন কলকাতায়, পিজি হাসপাতালে। সেই থেকে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। পিজি থেকে এনআরএস, একবার, দু'বার নয়, তিন তিন বার অস্ত্রোপচার হয়েছে একরত্তি মেয়ের। কিন্তু প্রতিবারই ফিরে এসেছে অসুখ। কয়েক দিন পর থেকেই ফের মাথায় জল জমতে শুরু করেছে, বড় হতে শুরু করেছে মাথার আকৃতি।
বিশাল মাথার কারণে থমকে গেছে লিমার শারীরিক বৃদ্ধি। বর্তমানে সাড়ে চার বছর বয়স হলেও, মাথার কারণে ভাল করে নড়াচড়াও করতে পারে না সে। নেই স্বাভাবিক বৌদ্ধিক বিকাশও। দরিদ্র পরিবারে এইভাবেই লিমা, আরও দুই সন্তান, স্ত্রী, মাকে নিয়ে কোনওরকমে দিন গুজরান মিঠু শেখের। তিনি ছাগল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তারই মধ্যে এই ক'বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসার জন্য খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। জমিজমা, স্ত্রীর গয়না-- কিছুই বেচতে বাকি রাখেননি তিনি।
এখন মিঠু শেখের আশা, সরকারি ভাবে কোনও সাহায্য পেলে মেয়ের চিকিৎসা করাবেন তিনি। লিমাকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে আর কোনও উপায় নেই তাঁর হাতে।