দেবকের বাজি কারখানার বিস্ফোরক সরবরাহকারী মুন্না সাউ গ্রেফতার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈহাটির দেবকের বাজি কারখানায় বিস্ফোরক সরবরাহকারী মুন্না সাউকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুন্নাই ছিল এই কারখানার মূল পাণ্ডা। আজ ভোররাতে তাকে উত্তর ২৪ পরগনারই বীজপুর থেকে গ্রেফতার করে নৈহাটি থানার পুলিশ। পুলিশ জেনেছে যে, মধ্যপ্রদেশ
শেষ আপডেট: 13 January 2020 06:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নৈহাটির দেবকের বাজি কারখানায় বিস্ফোরক সরবরাহকারী মুন্না সাউকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুন্নাই ছিল এই কারখানার মূল পাণ্ডা। আজ ভোররাতে তাকে উত্তর ২৪ পরগনারই বীজপুর থেকে গ্রেফতার করে নৈহাটি থানার পুলিশ। পুলিশ জেনেছে যে, মধ্যপ্রদেশ থেকে সড়কপথে দেবকের বাজি কারখানাগুলিতে সে বিস্ফোরক সরবরাহ করত।
আজ তাকে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করবে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাকে জেরা করা শুরু হয়েছে।
দেবকে বিস্ফোরণের পরে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল ওই কারখানার মালিক নূর হোসেনকে। পুলিশ তাকে জেরা করেছে। ওই কারখানায় যে সব গাড়ি কাঁচামাল সরবরাহ করতে আসত পুলিশ সেই সব গাড়ির চালকদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নূরের কাছে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হয় মুন্না সাউয়ের ব্যাপারে।
তার পরেই পুলিশ তাতে ধরার পরিকল্পনা করে। ধৃত মুন্নাকে আদালতে পেশ করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইবে পুলিশ। যেসব গাড়িতে করেসে মধ্যপ্রদেশ থেকে বিস্ফোরক সরবরাহ করত সেইসব গাড়িতে আর কী থাকত সে কথা পুলিশ জানার চেষ্টা করবে। আর কোথায় সে বিস্ফোরক সরবরাহ করত সে কথাও পুলিশ জানতে চাইবে বলে সূত্রের খবর।

গত ৩ জানুয়ারি নৈহাটির দেবকে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আট জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়। গঙ্গার অন্য পারের হুগলির একাংশও কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণে। চুঁচুড়ার প্রেমনগর, আখনবাজার-সহ একাধিক এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরাও কম্পন অনুভব করেছেন। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দু’পাড়ের বাসিন্দা।
ওই বাজি কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা-বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে গিয়েও বিপত্তি ঘটে। নৈহাটির ছাইঘাটে পুলিশ ওই বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় যে বিস্ফোরণ ঘটে তাতে ছাইঘাট থেকে ৫০০ মিটার এলাকা কেঁপে ওঠে, কম্পন অনুভূত হয় গঙ্গার ওপারে চুঁচুড়াতেও। গঙ্গার দুই পাড়ের বহু বাড়িতে জানলার কাচ ভেঙে যায়। চুঁচুড়া পুরভবন-সহ বেশ কযেকটি বাড়িতে ফাটল দেখা যায়। ফাটল দেখা দেয় নৈহাটির দিকে বিভিন্ন বাড়িতেও। ভেঙে পড়ে অ্যাজবেস্টসের ছাদ।
যেখানে বোমা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছিল সেখান থেকে ১২০ মিটার মতো দূরে থাকা পুলিশের চারটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আগুন জ্বলে যায় পুলিশের দু’টি গাড়িতে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিক্ষোভ হয় নৈহাটিতে, পথ অবরোধও হয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তারপরে অবরোধ উঠে যায়।