শেষ আপডেট: 28 July 2018 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট ময়দানে কী হবে পরের কথা, শনিবার দুপুরে মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠে নরেন্দ্র মোদীর কাছে গোল খেয়ে গেল তৃণমূল!
১৬ জুলাই ওই মাঠে কৃষক সমাবেশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃষ্টি ভেজা আবহাওয়ায় সে দিন কলেজিয়েট মাঠ, তার আশপাশ, এমনকী ভিড়ে ভেসে গিয়েছিল মেদিনীপুর সদর। তুলনায় শনিবার তৃণমূলের সভা দৃশ্যত ম্যারম্যারে। লোক হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু শহর পরের কথা মাঠই ভরেনি। যদিও শাসক দলের নেতারা দাবি করছেন, চল্লিশ হাজারের মতো মানুষ এসেছিলেন। তবু বারো দিন আগে পরের ছবিটা কিছুটা অস্বস্তিতেই ফেলে দিয়েছে তৃণমূলকে।
তৃণমূলের আজকের সভা [/caption]
বিপরীতে উচ্ছ্বসিত বিজেপি। মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষরা যেন অপেক্ষা করেই বসেছিলেন এ দিন তৃণমূলের সভার বহর দেখতে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পরই মুকুলবাবু বলেন, “মেদিনীপুরই প্রমাণ করল তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করা শুরু করেছে মানুষ। অন্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও জনপ্রিয় মোদীজি।” তাঁর কথায়, মেদিনীপুরের সভায় প্রশাসন কী রকম অসহযোগিতা করেছিল তা গোটা বাংলা দেখেছে। কিন্তু বিজেপি কর্মীদের মেরে, খুন করে, পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে অত্যাচার করে আর ঠেকানো যাবে না। মেদিনীপুর আগামী লোকসভা ভোটের পূর্বাভাস জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাতে এ বার পরিবর্তনের পরিবর্তন আসন্ন।
আরও পড়ুন : সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতার নৈতিক জোর বা বিশ্বাসযোগ্যতা কোনওটাই নেই: দ্য ওয়ালে লিখলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীপ্রসঙ্গত, বিরোধীরা সভা করলে সেই স্থানে পরক্ষণেই পাল্টা সভা করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুদিনের কৌশল। মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি কৃষক সমাবেশের ডাক দেওয়া মাত্রই প্রহর গোণা শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেখানে তৃণমূলের পাল্টা সভা কবে হবে? গোড়ায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ঠিক করেছিলেন, পাল্টা সভা করবেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়, মোদীকে জবাব দিতে ৯ অগস্ট সেখানে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই পরিকল্পনা মমতা নিজেই বাতিল করে একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন ২৮ অগস্ট কলেজিয়েট মাঠে সভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সীরা।
[caption id="attachment_22655" align="alignnone" width="702"]
মোদির মিটিং ফাইল চিত্র[/caption]
এ দিনের সভায় আশানুরূপ ভিড় না হওয়ার কারণ হিসাবে তৃণমূলের একাংশ নেতা দলের কৌশলেরই সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এত ঘন ঘন সভা ডাকা হচ্ছে তার ফলেই এই বিপর্যয় হয়েছে। মেদিনীপুরের মতো শহরে এক ডাকে তৃণমূলের সভায় লক্ষাধিক মানুষের সভা করা সহজ নয়। তৃণমূলকেও আশপাশের জেলা থেকে লোক আনতে হয়। সে জন্য গাড়ি ভাড়া করতে হয়। সদ্য একুশ জুলাইয়ের কর্মসূচীর জন্য নেতারা টাকা খরচ করেছেন। তার পর ঘাড়ে ঘাড়ে এই কর্মসূচী সফল করা কঠিন ছিল। ২৮ অগস্ট ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভা হবে। তার মাঝে আবার ৯ অগস্টের সভা রয়েছে। নেতা কর্মীরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।