দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বিহার ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, কোভিডের কারণে বড় কোনও অঘটন না ঘটলে বাংলাতেও ভোট হবে সময়েই। অর্থাৎ পুজোর মাস বাদ দিলে মাঝে আর চার-পাঁচ মাস সময় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাসক দল তৃণমূলের প্রস্তুতি যেমন গতি পেয়েছে, জেলা সফরে বেরিয়ে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই প্রস্তুতিতে গতি আনতে চাইছে বিজেপিও।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলায় নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠক ডেকেছেন বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। সহ সভাপতি মুকুল রায়, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশ, অরবিন্দ মেনন প্রমুখের ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা।
বিজেপি শীর্ষ সূত্রে খবর, শেষ মুহূর্তে কৌশলের পরিবর্তন না ঘটলে বাংলায় ভোটের জন্য একটি নির্বাচনী কমিটি গড়ে দিতে পারেন অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা। এবং সেই কমিটির শীর্ষে রাখা হতে পারে দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়কে।
এ ধরনের নির্বাচন কমিটির গঠন অতীতেও হয়েছে। গত লোকসভা ভোটেও বাংলায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সে সময়ে সংগঠনে মুকুলবাবুর কোনও পদ ছিল না। নির্বাচন কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু এ বার কৌশল নির্ধারণের মূল দায়িত্ব থাকতে পারে তাঁরই উপরে।
বাংলায় বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানের ইতিহাস দীর্ঘ নয়। নির্বাচনী সাফল্য সবে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু এরই মধ্যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। তাই সমষ্ঠিগত ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশেই নির্বাচন কমিটি গঠন করা হতে পারে। একুশের ভোটে এই কমিটিই সমস্ত রকমের নির্বাচনী কৌশল ও প্রচার কৌশল নির্ধারণ করবে।
এখন প্রশ্ন, মুকুল রায়কে কেন কমিটির মাথায় রাখা হতে পারে?
রাজ্য ও সর্বভারতীয় বিজেপির একাধিক নেতার মতে, একে তো সাংগঠনিক কারণ রয়েছে। সংগঠনে পদাধিকার বলে মুকুল রায়ের পদ সকলের উপরে। দিলীপ ঘোষ, কৈলাস, অরবিন্দ মেনন, শিবপ্রকাশদের উপর সাংগঠনিক মর্যাদা রয়েছে তাঁর। তাই কৈলাস, দিলীপদের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য হতে পারেন না তিনি। তবে সর্বভারতীয় সহ সভাপতিকে এ ধরনের কোনও কমিটির চেয়ারম্যান করা হবে, নাকি তাঁকে পর্যবেক্ষক করা হবে বা ঘরোয়া ভাবে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটা একান্তই খুঁটিনাটি ব্যাপার। মোদ্দা বিষয় হল, এ হেন কমিটির মাথায় রাখা হতে পারে তাঁকেই।
বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, মুকুল রায়কে এই কমিটির মাথায় রাখার রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। উনিশের ভোটের পর শহিদ মিনারের সভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে খোলাখুলি মুকুলবাবুর তারিফ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় ১৮ টি আসন জেতার জন্য মুকুল রায় অন্যতম নেপথ্য কারিগর বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই কারিগরের ভূমিকা একুশেও যে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, এটা পরিষ্কার যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মুকুলবাবুর রাজনৈতিক ওজন ও মর্যাদা বাড়াতে সক্রিয়। বিশেষ করে গতকাল বুধবার দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে যে ভাবে দুই সাংসদকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, তার মধ্যেই সেই বার্তা রয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলে এই রীতি নেই। বিজেপিতেও এমন ঘটনার পূর্ব দৃষ্টান্ত বিশেষ নেই।