
শেষ আপডেট: 19 April 2023 15:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুল রায় (Mukul Roy) দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর রাজধানীতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন। নিজের মুখেই জানিয়েছেন সে তিনি সুস্থ। সম্প্রতি তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর মাথায় একটি চিপ বসিয়েছেন ডাক্তারবাবুরা। তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এর মধ্যেই ডাক্তারবাবুরা জানিয়ে দিয়েছেন মস্তিষ্কের বিরল অসুখ ‘হাইড্রোকেফালাস’ (hydrocephalus) রোগে আক্রান্ত মুকুলবাবু।
দীর্ঘদিন ধরেই নাকি পার্কিনসন্সে ভুগছিলেন মুকুল রায়। তাঁর ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিনাশও ধরা পড়েছে। নিউরোসার্জন ডা. এস এন সিং তাঁর চিকিৎসা করছেন। ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন, ডিমেনশিয়া কখনও পুরোপুরি ঠিক হয় না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিণতি আরও খারাপের দিকে যায়। মুকুলবাবুরও ঠিক তাই হয়েছে। এখন তিনি স্নায়ুতন্ত্রের বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তারি পরিভাষায় এই রোগের নাম ‘হাইড্রোকেফালাস’।
শুভেন্দুর গেম প্ল্যানেই মুকুল দিল্লিতে, তৃণমূলটা যেন রেস্টুরেন্ট: মদন
এই রোগে মস্তিষ্কে জল জমতে থাকে এবং তার চাপে মাথা ক্রমশ বড় হতে থাকে। সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগীর মৃত্যুও হয়। স্নায়ুতন্ত্র থেকে অনবরত সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (সিএসএফ) নিঃসরণ হয় এবং মস্তিষ্কে জমতে থাকে। ফলে মাথা বড় হতে থাকে। হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হতে পারে। রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্তও হয়ে যেতে পারে।
নিউরোসার্জন বলছেন, হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসা অবশ্যই হয়। তবে দেখতে হবে, রোগী কী অবস্থায় আছে। প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারও হতে পারে। বিশেষ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের জল পেটের মধ্যেও পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এই পদ্ধতির নাম ‘ভেনট্রিকিউলোপেরিফোনিয়াম’। এই পদ্ধতি সফল না হলে পরের ধাপ হচ্ছে ‘ইটিভি’। এই বিশেষ ধরনের অস্ত্রোপচারে মস্তিষ্কের কোনও একটি বিশেষ অংশে জমে থাকা জল সারা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে অথবা সেই জল বাইরেও বের করা যেতে পারে।